পুরনো কথা - অধ্যায় ১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-72203-post-6132062.html#pid6132062

🕰️ Posted on January 28, 2026 by ✍️ Mr. X2002 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1218 words / 6 min read

Parent
পর্ব ১ জেলের পুরনো গোসলখানায় পানির শব্দ মিশে যাচ্ছে দেয়ালের ফাটল দিয়ে আসা বাইরের হাওয়ার সাথে। মেঝেতে জমে থাকা কাদামাখা পানি ছলছল করছে, আর তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে গনেশ—ষাট পেরোনো এক বিশালদেহী মানুষ। তার উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় ফুট, কালো চামড়ায় যেন আগুনের ছাপ পড়ে গেছে বছরের পর বছর। শরীর জুড়ে অগুনতি দাগ—কারো ছুরির, কারো গুলির, কারো চাবুকের। পিঠে একটা লম্বা কাটা দাগ এখনো যেন জ্বলজ্বল করছে স্মৃতির আগুনে। গনেশ দুই হাতে পানি তুলে মাথায় ঢালছে। তার পেশীবহুল বাহুতে পানির ধারা গড়িয়ে পড়ছে, আর সেই সাথে তার চোখে একটা অদ্ভুত শান্তি। হঠাৎ দরজার কাছে একটা ছায়া পড়ল। জেলের একজন প্রহরী এসে দাঁড়িয়েছে। লোকটা গনেশের দিকে তাকিয়ে হাসল—একটা করুণার হাসি। "আজ আপনার শেষ দিন, গনেশ সাব। কুড়ি বছর পর বাইরে যাচ্ছেন। কী করবেন এখন? কে আছে আপনার জন্য? কিছুই তো আর বাকি নেই।" গনেশ কোনো উত্তর দিল না প্রথমে। সে শুধু এক হাত নামিয়ে নিল নিচে। তার বিশাল, কালো লিঙ্গটা ধরে আস্তে আস্তে ধোয়া শুরু করল। পানির স্রোত তার আঙ্গুলের ফাঁকে দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠল—যেন রক্তের আগুন জ্বলে উঠেছে ভিতরে। লিঙ্গটা তার হাতে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেল, বড়, মোটা, যেন একটা অস্ত্র। সে ঘষতে লাগল আস্তে আস্তে, চোখ বন্ধ করে। মনে মনে একটা নাম বারবার উচ্চারণ করছে—করিম খান। "আমি বদলা নেব," গনেশের গলা থেকে বের হলো একটা গভীর, গর্জনের মতো শব্দ। তার হাতের গতি বাড়ল। লিঙ্গটা আরও শক্ত হয়ে উঠল, শিরা ফুলে উঠেছে। চোখ লাল, ঠোঁট কাঁপছে। "কুড়ি বছরের হিসাব আমি মিটিয়ে দেব।" প্রহরী চুপ করে চলে গেল। গনেশ একা রইল পানির নিচে, তার হাত নিজের শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশটাকে যেন অস্ত্রের মতো তৈরি করছে। অন্যদিকে, করিম খানের বাড়িতে সকালের নাশতার টেবিলে একটা উষ্ণ, পরিবারিক পরিবেশ। বড় ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আছে। করিম খান—পঞ্চান্ন বছরের একজন গম্ভীর, শক্তিশালী পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার—টেবিলের মাথায় বসে। তার সামরিক ইউনিফর্ম এখনো ঝুলছে পাশের চেয়ারে, কিন্তু এখন সে সাদা পাঞ্জাবি পরে আছে। তার চোখে একটা শান্ত কিন্তু কর্তৃত্বপূর্ণ ভাব। পাশে তার স্ত্রী লায়লা খান, সাতচল্লিশ বছরের এক সুন্দরী মহিলা, যার চোখে এখনো যৌবনের ছোঁয়া লেগে আছে। সে চুপচাপ সবাইকে খাবার দিচ্ছে। সামনে রিয়াজ খান, ত্রিশ বছরের যুবক, তার বাবার মতোই লম্বা-চওড়া। সে তার প্লেটে পরোটা আর ডিম তুলে নিচ্ছে। তার পাশে কায়নাত খান, সাতাশ বছরের তরুণী বউ, যার শরীর এখনো যেন ফুটন্ত যৌবনের আগুনে জ্বলছে। তার গায়ের রঙ ফর্সা, চোখ বড় বড়, আর ঠোঁটে একটা মিষ্টি হাসি। সে তার মেয়ে সাদিয়াকে কোলে নিয়ে বসে আছে। সাদিয়া—মাত্র পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে—টেবিলে বসে প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু খাচ্ছে না। "সাদিয়া, খাও তো! এতক্ষণ ধরে কী করছো?" কায়নাত একটু বিরক্ত হয়ে বলল। তার গলায় মায়ের কঠোরতা মিশে গেছে। "দেখো, তোমার প্লেট ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।" সাদিয়া মুখ ফিরিয়ে নিল। তার ছোট্ট ঠোঁট বেঁকে গেল। "না, মা। আমার খিদে নেই।" কায়নাত আরও কঠোর হলো। "খিদে নেই মানে? তুমি সারাদিন খেলবে, আর খাবে না? এটা হয় নাকি? এখনই খাও!" টেবিলে একটা ছোট্ট উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। রিয়াজ হাসল, কিন্তু কিছু বলল না। লায়লা চুপ করে তাকিয়ে রইল। তখনই করিম খান মুখ তুলল। তার গম্ভীর চোখে একটা নরম আলো জ্বলে উঠল। সে সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসল—দাদুর হাসি। "আরে আরে, কী হচ্ছে এসব?" করিম আস্তে বলল। সে তার চেয়ার থেকে একটু এগিয়ে এসে সাদিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। "আমার ছোট্ট রাজকুমারী কেন মুখ ফুলিয়ে আছে? দাদুর কাছে এসো।" সাদিয়া একটু হাসল। সে কায়নাতর কোল থেকে নেমে দাদুর কোলে উঠে বসল। করিম তাকে কোলে তুলে নিয়ে বলল, "দেখো দাদু, মায়ের কথা শুনতে হয়। মা যা বলে, তা তোমার ভালোর জন্যই বলে। তুমি যদি না খাও, তাহলে শক্তি পাবে কোথায়? কীভাবে দাদুর সাথে খেলবে?" সাদিয়া দাদুর বুকে মুখ লুকাল। "কিন্তু দাদু, এটা ভালো লাগছে না।" করিম হেসে উঠল। সে একটা পরোটা ছিঁড়ে মাখন লাগিয়ে সাদিয়ার মুখের কাছে ধরল। "দেখো, দাদু খাইয়ে দেবে। এক কামড় দাও। মায়ের কথা শুনলে দাদু তোমাকে আজ বাগানে নিয়ে যাবে, পুতুল কিনে দেবে।" কায়নাত একটু নরম হয়ে হাসল। "দেখো, দাদু তোমাকে বকছে না। আমিও তো তোমার ভালো চাই।" সাদিয়া অবশেষে মুখ খুলল। করিমের হাত থেকে এক কামড় নিল। টেবিলে আবার হাসি ফিরে এল। লায়লা চুপচাপ সব দেখছিল, তার চোখে একটা তৃপ্তি। রিয়াজ কায়নাতর দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল। এই ছোট্ট মুহূর্তগুলোই তাদের পরিবারকে এত সুন্দর করে তুলেছে—একজন কঠোর সেনা অফিসারের ঘরে এই নরমতা, এই ভালোবাসা। কিন্তু কেউ জানে না, দূরে কোথাও একটা কালো ছায়া এগিয়ে আসছে—বদলার আগুন নিয়ে। পর্ব ২ সকালের রোদ তীব্র হয়ে উঠেছে। করিম খান আর তার ছেলে রিয়াজ একটা সাদা প্রাদো গাড়িতে চড়ে মিলিটারি ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছে। রাস্তাটা নির্জন—দু’পাশে শুকনো ঝোপঝাড় আর দূরে পাহাড়ের ছায়া। করিম সামনের সিটে বসে, তার চোখে সেই চিরকালের গম্ভীর ভাব। রিয়াজ ড্রাইভ করছে। হঠাৎ রিয়াজ পা দিয়ে ব্রেক চাপল জোরে। গাড়িটা থমকে দাঁড়িয়ে গেল। টায়ারের শব্দে ধুলো উড়ল। করিম ভ্রু কুঁচকে তাকাল। “কী হলো? কেন ব্রেক করলে?” রিয়াজের গলা একটু কাঁপছে। “বাবা... সামনে রাস্তার মাঝে একটা লোক পড়ে আছে। মনে হচ্ছে মরে গেছে।” করিম চোখ সরু করল। “কী বলছো? আসো, নেমে দেখি।” দু’জনে গাড়ি থেকে নামল। রাস্তার মাঝে সত্যিই একটা বিশালদেহী লোক পড়ে আছে—কালো চামড়া, শরীরে পুরনো দাগ, মাথায় একটা ছেঁড়া পাগড়ি। চোখ বন্ধ, শরীর অচল। করিম আর রিয়াজ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। হঠাৎ সেই লোকটা চোখ খুলল। ধীরে ধীরে উঠে বসল। তারপর দাঁড়িয়ে গেল—পুরো সাড়ে ছয় ফুটের বিশাল দেহ। তার মুখে একটা ভয়ঙ্কর হাসি। চোখ দুটো লাল—যেন কুড়ি বছরের আগুন জ্বলছে। “চিনেছো আমাকে, করিম খান?” গনেশের গলা গভীর, গর্জনের মতো। করিমের শরীরে যেন বিদ্যুৎ লাগল। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সব মনে পড়ে গেল—সেই কুড়ি বছর আগের ঘটনা। গনেশ তখন ছিল একজন সাধারণ পাকিস্তানি কৃষক । সীমান্তের কাছে তার ছোট্ট খেত, পরিবার। কিন্তু করিম খানের একটা গোপন মিশন ছিল—এক ভারতীয় স্পাই ধরার দায়িত্ব। করিম জানত সত্যিকারের স্পাই কে, কিন্তু সে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল—বিনিময়ে বড় ঘুস। আর তার বদলে একটা বলির পাঁঠা লাগবে। গনেশকে ধরে আনা হলো। করিম নিজে কাগজ তৈরি করল—গনেশকে ভারতীয় স্পাই বানিয়ে। প্রমাণ জাল, সাক্ষী কেনা। গনেশের চিৎকার কেউ শোনেনি। সে জেলে ঢুকে গেল—কুড়ি বছরের জন্য। তার পরিবার ভেঙে গেল, সম্মান শেষ। করিমের ঠোঁট কাঁপছে। “গনেশ... তুমি...” গনেশের হাতে হঠাৎ একটা পিস্তল উঠে এল। সে হাসতে হাসতে ট্রিগার টিপল। ব্যাং! গুলিটা করিমের দিকে গেল, কিন্তু করিম শেষ মুহূর্তে ধাক্কা দিল গনেশকে। গুলিটা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে রিয়াজের বুকে লাগল। রিয়াজের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সে হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে মাটিতে বসে পড়ল। রক্ত বের হচ্ছে—গাঢ় লাল। “রিয়াজ!” করিম চিৎকার করে উঠল। তার গলা ভেঙে গেল। “গনেশ! তুই কী করলি!” গনেশ শুধু হাসল। তার চোখে কোনো দয়া নেই। “এটা তো শুরু মাত্র, করিম খান। তোর ছেলে... তোর পরিবার... সবাইকে আমি নরক দেখাব।” করিম আর দাঁড়াল না। সে রিয়াজকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে ছুটল। গনেশ দূরে দাঁড়িয়ে হাসছে—তার বিশাল শরীর রোদে কালো ছায়া ফেলছে। হাসপাতালে পৌঁছতে পৌঁছতে রিয়াজের শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে। করিমের শার্ট রক্তে ভিজে গেছে। জরুরি বিভাগে ঢোকার সাথে সাথে ডাক্তাররা ছুটে এল। রিয়াজকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। খবর পেয়ে বাড়ির বাকিরা ছুটে এল—লায়লা, কায়নাত, আর ছোট্ট সাদিয়া। লায়লার চোখে জল, কিন্তু সে চুপ। কায়নাত কাঁদছে না—তার চোখ শূন্য, যেন সব শেষ হয়ে গেছে। সাদিয়া মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে, কিছু বুঝতে পারছে না। অনেকক্ষণ পর ডাক্তার বেরিয়ে এল। তার মুখ গম্ভীর। “অবস্থা খুব খারাপ। গুলি ফুসফুসের কাছে লেগেছে। আমরা যথাসাধ্য করছি। কাল সকালে পুরো রিপোর্ট দেব। আপনারা এখন বাড়ি চলে যান। এখানে থেকে লাভ নেই।” কায়নাত পা বাড়াল না। “না... আমি থাকব। রিয়াজের পাশে।” ডাক্তার মাথা নাড়ল। “প্রয়োজন নেই, ম্যাডাম। আইসিইউতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আপনি থাকলে শুধু কষ্ট বাড়বে। কাল আসুন।” লায়লা কায়নাতর হাত ধরল। “চল মা... বাড়ি চল। সাদিয়াকেও দেখতে হবে।” কায়নাত শেষবার আইসিইউয়ের দরজার দিকে তাকাল। তার চোখে জল এল, কিন্তু পড়ল না। সে সাদিয়াকে কোলে তুলে নিল। করিম এক কোণে দাঁড়িয়ে—তার চোখে অপরাধবোধ আর ভয়। গনেশের ছায়া এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাকে। আর এটা শুধু শুরু।
Parent