অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৩১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289756.html#pid6289756

🕰️ Posted on August 17, 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1509 words / 7 min read

Parent
ছবি নিয়ে কথা বলতে বলতে চা খাবার আব্দার করে নুসাইবা। সাফিনা সবার জন্য নিজ হাতে চা বানাতে উঠে পড়ে, সিনথিয়া বলে মা আমিও আসি তোমাকে হেল্প করতে? সাফিনা চোখ বড় করে তাকায়, সাবরিনা বলে উঠে আজকে সূর্য কোন দিকে উঠল? সিনথিয়া কিচেনে যেতে চায়? সবাই এক দফা হো হো করে হেসে উঠে। সিনথিয়া বলে এই যে এক বছর আমি একা একা বাইরে ছিলাম সে সময় আমার রান্নাবান্না কে করে দিত এসে শুনি? নুসাইবা বলে তা কি রান্না করতি বাজার থেকে কেনা হটডগ নাকি বার্গার? আবার সবাই হেসে উঠে। আসমা বেগম বলেন এই তোমরা সবাই ওরে নিয়ে হাসতেছ কেন। আমার নাতনীটা তার বরের জন্য একটু চা বানাবে তাতে এত কথা। সিনথিয়া এইবার একটু লজ্জা পায়। বলে নানী আমি চা সবার জন্য বানাচ্ছি খালি মাহফুজের জন্য না। এইবলে সাফিনার পিছ পিছ রান্না ঘরে এসে হাজির হয় সিনথিয়া। নিজে থেকে চায়ের পাতিল খুজে দুধ বসায় গরম করার জন্য। সাফিনা পাশে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকেন। কত বড় হয়ে গেল মেয়েটা চোখের নিমিষে। গত এক বছরে নিজে নিজে বিদেশে থেকে পড়াশুনা করছে। আগে যেখানে এক গ্লাস পানি নিজে ঢেলে খাইতে চাইত না সেখানে একা একা সব করছে। একটা গর্ব হয় আবার সেই সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়। মায়ের হঠাৎ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলা শুনে পাশ ফিরে তাকায় সিনথিয়া, জিজ্ঞেস করে কি হল মা। এমন দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছ কেন? মন খারাপ? সাফিনা বললেন মন খারাপ হবে কেন বরং এইভাবে সবাই মিলে কতদিন আড্ডা দেওয়া হয় না বাসাটা আবার গম গম করছে। সিনথিয়া বলে তাহলে দীর্ঘশ্বাস কেন মিস সাফিনা। মজা করে মা কে মাঝে মাঝে মিস সাফিনা ডাকে সিনথিয়া। সাফিনা করিম বলেন এই যে তুই নিজে নিজে সব করছিস এটা দেখে। সিনথিয়া বলে তুমি খুশি হও নি? সাফিনা বলেন খুশি হয়েছি তো অবশ্যই। তবে এই যে তুই নিজে নিজে সব করছিস আজকাল এটা দেখে বুঝে গেছি ছানা আর ছোট নেই। নীড় ছেড়ে বের হবার সময় হয়ে গেছে। এই সময়টা সব মায়েদের গর্ব হয় আবার একটা দুঃখ হয় কারণ প্রত্যেক মা জানে এই সময়টাতে সন্তানরা আর ঘরে থাকবে না। নিজদের ঘর বানাবে বের হয় পড়বে। সিনথিয়া তার মায়ের কন্ঠে বিষাদের ছায়া পায়। শক্ত করে সাফিনা কে জড়িয়ে ধরে বলে এইভাবে বলো না তো মা। খুব খারাপ লাগে। আমি সব সময় তোমার ছোট্ট সিনথি থাকব। তখন আবার রেগে বলবে এই মেয়েটার জ্বালায় শান্তিতে থাকতে পারি না। হেসে উঠেন সাফিনা। বলেন জানি জানি। আমি সেই ছোট্ট সিনথি কে মিস করব ঠিক তবে আমি চাই এই সিনথিয়া থাকুক। বয়স হয়েছে আমাদের এই সময় এমন একটা রেসপন্সিবল সিনথিয়া কে কোন বাবা মা না চাইবে। এই কথা শুনে দুই পা পিছিয়ে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়ায় সিনথিয়া বলে কে বলল তোমার বয়স হয়েছে। তোমাকে ইজিলি আমার আর আপুর বড় বোন বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে। নানী কে দেখ না এত বছর বয়সেও কেমন গর্জিয়াস। সেই নানীর মেয়ে তুমি, আর সুন্দরী তোমাকে বয়স্ক দেখায় এটা যে বলবে তার তো চোখে চশমা লাগবে। সাফিনা হেসে বলেন তাহলে তো আমার চশমা লাগবে। সিনথিয়া বলে বাজে বকো না তো মা। এই দেখ তোমার মত এত সুন্দর হাইট কয়টা বাংগালী মেয়ের থাকে। তোমার স্কিন কালার আর টেক্সচার দেখ আমার বান্ধবীরা সাপ্তাহে সাপ্তাহে দশ পনের হাজার টাকা মেকাপ আর স্কিনকেয়ারের পিছে খরচ করেও এর এক দশমাংশ হতে পারলে বর্তে যাবে। তোমার ফিগার দেখেছ আগুন আগুন। সাফিনা এইবার লজ্জা পেয়ে যায়। ছি কি বলছিস এইসব। সিনথিয়া বলে আমি তোমাদের জেনারেশনের এইসব ব্যাপার বুঝি না মা। সুন্দর বললাম তখন তো খুব গিলে প্রশংসা নিলে কিন্তু যেই বললাম ফিগার আগুন তখন বললে ছি বাজে কথা। কেন ফিগার কি শরীরের অংশ না? আমরা যখন মানুষের সৌন্দর্যের কথা বলি সেখানে কি আমরা ফিগারের সৌন্দর্য কে অস্বীকার করি? তাহলে সরাসরি মুখে বলতে অসুবিধা কোথায়। সাফিনা মেয়ের প্রশ্নের মুখে একটু থমকে গেলেন। সিনথিয়ার কথায় যে যুক্তি নেই তা না তবে তার জন্ম আর বেড়ে উঠা যে সময়ে সে সময়ের মানুষেরা অন্তত সৌন্দর্যের বর্ণ্না দিতে গিয়ে শারীরিক অংগের বর্ণনা দিত না সর্বোচ্চ যেটা করত সেটা হল রূপের প্রসংসা করা। গায়র রঙ, চোখ বা চুলের প্রশংসা দিয়ে সারা হত প্রশংসার বর্ণনা তবে সিনথিয়ার কথা তো মিথ্যা না। নারী বা পুরুষ উভয়ে তো বিপরীত লিংগের শারীরিক কাঠামো কে অস্বীকার করতে পারে না বরং সেটা তো আকর্ষণের মূল হেতু। তবে সাফিনা সহজে হার স্বীকার করেন না। শিক্ষক সলুভ ভাব নিয়ে পালটা যুক্তি দেন। শারীরিক সৌন্দর্য কে তো অস্বীকার করার উপায় নেই সিনথি তবে সব কিছু তো মুখ ফুটে বলাটা শোভন না। তোদের জেনারেশনের বিশেষ করে এই ঢাকায় বড় হওয়া ছেলে মেয়েদের এই ব্যাপারটা আমি বুঝে উঠতে পারি না। সিনথিয়া উত্তর দেয় আমরা স্পেড কে স্পেড বলি মা। সাফিনা বলেন সেটা বুঝলাম কিন্তু সরাসরি কেন বলতে হবে। এই যে কবিতায়, শিল্প, সাহিত্যে এত এত উপমা এইগুলো কেন? সৌন্দর্য কে বর্ণ্না করার জন্য তো। আজকে যদি কবিরা, গায়কেরা, লেখকেরা সরাসরি বলতে থাকে শরীরের বর্ণনা তাহলে তো এইসব উপমা হারিয়ে যাবে। সিনথিয়া হেসে দেয়। তুমি আসলেই টিচার মা। কথা কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে গেলে। বাবার মত এত কাঠখোট্টা সারাদিন অফিসে টাইম দেওয়া লোকটাকে বিয়ে করলে কিভাবে? সাফিনা বলেন তোর নানা নানী বিয়ে ঠিক করল তাই তো বিয়ে করলাম এমন কাঠখোট্টা মানুষটাকে। তবে অত কাঠখোট্টা কিন্তু না তোর বাবা। এখন আর অত হাসে না তবে লোকটা একটু ফুসরত পেলে কিন্তু হাসে আর হাসাতে জানে। আজকাল অফিসের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকে বলে এইদিকটা আর তোরা অত দেখতে পারিস না। সিনথিয়া বলে তোমাদের সময়টা বেশ আজব ছিল তাই না? সাফিনা বলে কেন? এই যে বাবা মা ঠিক করলে আর তুমি রাজি হয়ে বিয়েতে বসে গেলে। কত বয়স ছিল তোমার ১৯ না ২০? সাফিনা বলে এতে এত অবাক হবার কি আছে। বাবা মায়ের পছন্দে তো এখনো বিয়ে হয়। সাবরিনার বিয়েও তো এমনে হল। সিনথিয়া বলে উহু, একটু পার্থক্য আছে তোমাদের সময়ের সাথে। বাবা মা বিয়ে ঠিক করলেও এখন বিয়ের আগে একটা প্রেম প্রেম পর্ব চলে কয়েক মাস হবু বর কনের। তোমাকে তো বাসায় দেখতে আসল তখন এক ঝলক দেখলে এরপর ঠিক বিয়ের দিন। ভাবা যায় এটা! তবে একদিক দিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্তু এটা মা। সাফিনা বলে কেন আবার। সিনথিয়া বলে তোমার মত সুন্দরী যদি প্রেমের সুযোগ পেত কত হাজার হাজার ছেলে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত দেখা যেত বাবা বিয়ের প্রস্তাব আসার আগেই কোন না কোন ছেলের হাত ধরে তুমি ভেগে গেছ। সাফিনা মেয়ের পিঠে দুম একটা কিল বসান। ছি কি বলিস তুই এইগুলো। লজ্জা সরম কখনো হলো না তোর। সিনথিয়া পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলল আম্মু ভুল কি বলছি। ২৬/২৭ বছর আগের কথা ছেড়ে দাও। এখনো তুমি একটু হ্যা বললে হাজার হাজার ছেলের লাইন দাঁড়িয়ে যাবে। খালি ছেলে কেন ছেলেদের বাপেরাও লাইনে দাঁড়াবে। হাহাহা। সাফিনা আবার কিল তুলে সিনথিয়া এইবার মাকে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু দিয়ে বলে মারবে না কিন্তু একদম। কয়দিন পরে চলে যাচ্ছি আবার। সাফিনা মেয়ের মাথায় কিলের বদলে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন তাহলে এইসব মিথ্যা মিথ্যা কিসব বলিস। সিনথিয়া বলে মিথ্যা বলব কেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আব্বুর বন্ধুরা, কলিগরা কিভাবে তোমার সাথে কথা বলার জন্য ছোক ছোক করে দেখ নি। বাজারে তোমার সাথে ঘুরতে গেলে আপু আর আমাকে বাদ দিয়ে তোমাকে চেক আউট করে ছেলেরা। আর করবে না কেন। এমন হট আম্মু আমার। সাফিনা দুম করে একটা কিল দিয়ে দেয় আর বলে আবার সব আজেবাজে কথা। এমনিতে বুড়ো হয়ে গেছি, মোটা বুড়ো মহিলা কে দেখার জন্য কার এমন বয়ে গেছে। সিনথিয়া এইবার বলে আম্মুউউ!!! তুমি মোটা!!! তোমাকে দেখতে বুড়ির মত লাগে!!!!! কে বলে তোমাকে এইসব কথা? আব্বু তো তোমাকে দেখলে সব সময় হাই বিউটিফুল বলে। কেন সেইটা চোখে পড়ে না বুঝি। সাফিনা বলে আরে তোর বাবার কথা ছাড়। বউকে, কে ক্ষেপাতে চায়। বউ সুন্দর না বললে যে ঝড়টা যাবে সেটা সামলানোর মত সাহস আর শক্তি এই মিজবাহ করিমের নাই। এইবার মা মেয়ে দুইজনে হাসতে থাকে। সিনথিয়া বলে ট্রাস্ট মি আম্মু। তুমি কোন এংগেল থেকে মোটা না। মেয়ের কথা শুনে শাড়ির আচল একটু সরিয়ে পেটের কাছে জমে থাকা হালকা মেদের স্তরকে হাতের মুঠোয় নিয়ে সাফিনা বলে এটা কি তাহলে? বল শুনি এটাকে কি বলে? সিনথিয়া হেসেই গড়িয়ে পরে। বলে আম্মু এখন নতুন ট্রেন্ড চলছে জান তো। ছেলেরা শুকনো মডেল টাইপ মেয়েদের চেয়ে একটু ফুল বডি ওম্যানদের লাইক করে বেশি। পেটের কাছে যদি একটা বেডপ ভুড়ি থাকত তাহলে সেটা হয়ত বেমানান হত। তোমার পেটে দেখ এই বলে মায়ের পেটের কাছে থাকা হালকা মেদ নিজেই মুঠো করে চেপে ধরে বলে দেখ অল্প সামান্য একটু মেদ। এইটা তোমার পেটের কাছের জায়গাটা কত নরম আর মসৃণ করেছে দেখ। এমন পেটের ঝলক ছেলেরা শাড়ির ফাক দিয়ে একটু দেখলে পাগল হয়ে যাবে। শুনে সাফিনা চোখ উলটায়। সিনথিয়া বলে তুমি বিশ্বাস করছ না তো। আচ্ছা শোন তোমার মেয়ের জামাই আমি যখন একদম শুকনো ছিলাম তখন কি বলত জান? তুমি আরকেটু মোটা হও আর সুন্দর লাগবে। আর এইবার বিদেশে থাকার সময় প্রচুর তেল জাতীয় খাবার কারণে এইযে পেটের কাছে আমারো তোমার মত কিছুটা মেদ জমেছে। মাহফুজ তো গতরাতেই বলেছে পেটের এই হালকা চর্বি ধরলে নাকি ওর মন গলে যায়। মেয়ের মুখে তাদের গোপন খবর শুনে ভীষণ লজ্জা পেয়ে যায় সাফিনা। ধমকে উঠে হালকা। বেডরুমের কথা এইভাবে কার সাথে কেউ শেয়ার করে? সিনথিয়া বলে আমি কাকে আর শেয়ার করলাম আমি তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আম্মুর সাথে শেয়ার করছি এই বলে আবার জড়িয়ে ধরে। তারপর বলে আচ্ছা যাও আমাদের উদাহারণ দিব না। তারপর ধর তোমার যে হাইট পাচ ছয়ের মত এই হাইটে বাংলাদেশে কত মেয়ে পাবে বল। তোমার এই দুধে আলতা রঙ, এই কাতিল ফিগার এই বলে একটা চোখ টীপ দেয়। সাফিনা আবার কিল তুলে। সিনথিয়া বলে আম্মু মারবে না কিন্তু তুমি না বলেছিলে বিয়ের পর মেয়েরা মায়েদের বান্ধবী হয়ে যায়। তাহলে আমি যদি বান্ধবীর সাথে এইসব দুষ্টমী না করি তাহলে কার সাথে করব বল। সাফিনা মাথা নাড়েন। বাইরে রেন্সপন্সিবল হলেও ভিতরে তার সেই চির দুষ্ট সিনথিয়া দুষ্ট রয়ে গেছে।
Parent