অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৩৩
গ
বাসায় এখন সবাই আছে। সাদমান এসেছে, আরশাদ ফেরত এসেছে। আসমা, মিজবাহ, সাফিনা, নুসাইবা, সাবরিনা, সিনথিয়া, মাহফুজ। সবাই মিলে বাসায় সন্ধ্যার পর একটা জমজমাট অবস্থা। প্রথমে কিছুক্ষণ লুডু খেলা হলো। সেই নিয়ে প্রচন্ড হাসাহাসি। সাদমান আর আরশাদ লুডু বাচ্চাদের খেলা বলে এড়িয়ে গেল। মিজবাহ ওদের সাথে নানা জিনিস নিয়ে গল্পে ব্যস্ত। সাবরিনা, সিনথিয়া, নুসাইবা আর মাহফুজ খেলতে বসল। মাহফুজ এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। খেলার বদলে শ্বশুড় আর ভাইরা ভাইয়ের আড্ডায় যোগ দিতে চাইছিল। তবে সিনিথিয়া বাধ সাধল। বলল না ওর সাথে খেলতে হবে। সাফিনা আর আসমা বেগম সোফায় বসে খেলা দেখতে শুরু করলেন। খেলা শুরু হতেই খেলা জমে গেল। সিংগেল গেম, মানে প্রত্যেকে নিজের জন্য খেলছে। আর সিনিথিয়ার শুরুতেই কয়েকবার ছক্কা উঠে গেল ফলে স্বভাবসুলভ ভাবে সিনথিয়া টিজ শুরু করল বাকি তিনজন কে। সাবরিনা আর সিনথিয়ার মাঝে সিলবিং রাইভালারি শুরু হয়ে গেল। দেখতে দেখতে সাবরিনার ছক্কা উঠে গেল। এইবার দুই বোন মিলে মাহফুজ আর নুসাইবা কে টিজ করছে। এনিয়ে হাসাহাসি হচ্ছে। সবার এত হইচই উতসাহ দেখে মিজবাহ, আরশাদ আর সাদমান গল্প ফেলে পাশে এসে দাড়ালো। হাসাহাসি হচ্ছে। দুই বোনের টিজের চোটে নুসাইবা আর মাহফুজের অবস্থা খারাপ। ওদের এখনো ছক্কা উঠে নি। মাহফুজ নতুন জামাই তাই লাজুক মুখ করে কথা শুনছে ঠিক উত্তর দিচ্ছে না। নুসাইবা এমনিতে দেমাগী। ভাতিজিদের খুব আদর করে তবে খেলার সময় ভিতরের দেমাগী স্বত্ত্বা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। জিততে হবে। টিজিং এর পালটা কাউন্টার দেবার জন্য নুসাইবা বলে উঠল আগে ছক্কা উঠলে লাভ নাই। আমি আর মাহফুজ মিলে ঠিক জিতে যাব। সাবরিনা বলল ফুফু একা কি করবে। নুসাইবা হঠাত করে মাহফুজের হাত ধরে বলল নতুন জামাই সাথে থাকলে আমি তোদের পরোয়া করি না। ঢাকায় ফেরত আসার পর নুসাইবার সাথে সেইভাবে কথা বলার সুযোগ হয় নি একান্তে। তাই বেশ কিছুদিন পর নুসাইবার হাতের স্পর্শ পেয়ে মাহফুজের ভিতরটা চনমন করে উঠে। সবাই নুসাইবার কথায় হেসে উঠে তবে আরশাদ চোখ সরু করে বুঝার চেষ্টা করে। নুসাইবা খুব অবলীলায় মাহফুজের হাত ধরেছে আবার হাত ধরার পর মাহফুজ চমকে হাত সরিয়ে নেয় নি যেন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। এর মাঝে কি আর কিছু আছে নাকি নরমাল হাসি ঠাট্টা। ভাবতে গিয়েও উড়িয়ে দেয় আরশাদ। মনের মধ্যে খারাপ কিছু থাকলে আড়াল করত বরং। এত জনের মাঝে প্রকাশ করত না হাত ধরে। খেলা এর মাঝে জমে উঠেছে। মাহফুজ আর নুসাইবার ছক্কা উঠে গেছে। এখন সবার গুটি আছে খেলায় তবে সিনথিয়া সাবরিনার গুটি বেশি। খেলার মাঝে প্রচন্ড কথা হচ্ছে, কথা পালটা কথা। মাহফুজ একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে সিনথিয়ার ফ্যামিলির মাঝে। তাই একটু একটু করে উত্তর দিচ্ছে। সিনথিয়ার কথায় মাহফুজের খোচা গুলোতে সবাই হো হো করে হেসে উঠছে। সিনথিয়ার দুষ্টমির পালটা উত্তর দিতে পারে এই ফ্যামিলিতে এমন কেউ নেই। মাহফুজ যেন সেই অভাব পূরণ করছে আজকে। তাই সবাই মাহফুজের কথায় মজা পাচ্ছে। সিনথিয়ার রাগার কথা থাকলেও সিনথিয়া নিজেও মজা পাচ্ছে পরিস্থিতিতে। বুদ্ধিমান সিনথিয়া বুঝেছে মাহফুজের সাথে ওর কথার এই দ্বৈরথে পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে মাহফুজের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাহফুজ খেলার মাঝে সবার কার্যক্রম লক্ষ্য করছে। মাহফুজ টের পেয়েছে সবাই ওর আর সিনথিয়ার কথার লড়াই উপভোগ করছে। এটা ওকে আর ইজি করে তুলেছে এই পরিবারে। মাহফুজ খেয়াল করে দেখেছে বাসার সবার উপর সিনথিয়ার কথা বলার অধিকার থাকলেও খালি ওর শ্বাশুড়ি সাফিনা করিমের সাথে সিনথিয়া কোন চোটপাট করতে পারে না। তবে সাফিনা করিম যে খুব রাগী বা কথায় কথায় ঝাড়ি দিচ্ছেন মোটেই না ব্যাপারটা। বরং বলা যায় এই বাসার সবচেয়ে শান্ত ধীরস্থির মানুষ। সাবরিনার ভিতরে যেমন একটা চাপা অহংকার আছে, জেদ আছে কিংবা সিনথিয়ার ভিতর চঞ্চলতা বা নুসাইবার ভিতরের দেমাগ, আভিজাত্য সব কিছু থেকে সাফিনা করিম আলাদা। তার ভিতরের চঞ্চলতা নেই, অহংকার নেই দেমাগ নেই। কিন্তু তারপরেও যেন তিনি আলাদা। মাঝে মিজবাহ করিম এক গ্লাস কোক খেয়ে আরেক গ্লাস রিফিল করতে চাইলেন তখন সাফিনা হাসি মুখে শান্ত স্বরে খালি বললেন আর কত খাবে? তোমার সুগার এমনিতেও বর্ডার লাইনে। মিজবাহ করিম গ্লাস নামিয়ে রেখে বললেন জ্বী ম্যাডাম। আবার সাদমান কে খেলা দেখতে দেখতে একটা পরামর্শ দিচ্ছেন। আরশাদের সাথে খেলার মাঝে দেশের পলিটিক্স নিয়ে কথা বলছেন। আকাশী কালারের একটা সুতি শাড়িতে চমৎকার মানিয়ে গেছে সাফিনার শরীর। এক বিন্দু বাহুল্য নেই শাড়িতে। শরীরের প্রতিটা অংশ যেন ঢেকে আছে শাড়িতে। চশমার ভিতরের দৃষ্টিতে সব যেন নিখুত ভাবে মাপছেন সব। মাহফুজ মনে মনে ভাবে বর্ন টিচার সাফিনা করিম। একদল সফল মানুষের ভীড় এই বাসায় তবে তাদের সবার সুতো যেন এই এক জনের হাতে। সিনথিয়া অনেক বার বলেছে, নুসাইবার কাছ থেকে শুনেছে, সাবরিনার কাছ থেকে শুনেছে- এই বাসার চাবি আসলে সাফিনা করিমের হাতে। যদিও বিয়ে হয়ে গেছে তবু সাফিনা করিমের গুড বুকে থাকা খুব জরুরি। তবে এই চেষ্টাটা করতে গিয়ে মাহফুজ যেন ক্রমে ফ্যান বয় হয়ে উঠছে সাফিনা করিমের।
শ্বশুর মিজবাহ করিম হাসি খুশি ভদ্রলোক, নরমালি শুরুতে যতটা রিজার্ভড মনে হয়েছিল ততটা রিজার্ভ উনি নন। অন্তত ফ্যামিলি সেটিংস এ। দুই মেয়ে কে খুব ভালবাসেন এটা বুঝা যায়। তবে প্রচন্ড ক্যারিয়ার অবসেসড। তার ক্যারিয়ার অবশেসনের কিছুটা সাবরিনার মাঝে গেছে বুঝা যায়। মাহফুজ কি করতে চায় ভবিষ্যতে, রাজনীতিতে ওর প্লান কি, ব্যবসা কিভাবে আগাতে চায় সেটা নিয়ে বেশ অনেক প্রশ্ন করেছেন উনি। উত্তর শুনে মনে হয়েছে মাহফুজের যে তিনি খুশি। উনি কথায় কথায় বলেছেন উনি পছন্দ করেন এমন মানুষদের যারা জানে তারা কি করতে চায়। সাদমান অন্যদিকে ঢাকার করোপরেট স্লেভ এর প্রকৃষ্ঠ উদাহারণ। গুড ব্যাকগ্রাউন্ড, গুড জব। খুব ওয়েল স্পোকেন বাট সব সময় খুব এটিকেট সচেতন। বিয়ের আগে একবার কথা হয়েছে আর বিয়ের পর এই কয়দিনে যা কথা হয়েছে। মাহফুজের মনে হয়েছে খুব ফরম্যাল। সাবরিনার ব্যক্তিত্বের সাথে যায় সাদমানের ব্যক্তিত্ব। তবে সাদমান কি জানে তার বউয়ের শীতল কঠিন হৃদয়ের নিচে একটা উষ্ণ হৃদয় লুকিয়ে আছে। মাহফুজ খেলতে খেলতে খেয়াল করে সাবরিনা বার বার মাহফুজের সাথে আই কন্টাক্ট লুকিয়ে যাচ্ছে। যখন মাহফুজ খেয়াল করছে না তখন মাহফুজের দিকে তাকাচ্ছে। খেলার উত্তেজনায় সবাই খেয়াল করছে না তবে মাহফুজের চোখ এড়াচ্ছে না। সাবরিনা আজকে পার্পল কালারের শার্ট আর কাল প্যান্ট পড়ে আছে। অফিস থেকে সরাসরি এসেছে। সিল্কের শার্ট ওর ফর্সা শরীরে আভা ছড়াচ্ছে। বাসায় আসার কারণে ইন ছেড়ে, শার্টের হাতা ভাজ করেছে ছেলেদের মত করে। তবে ছক্কার গুটি মারার জন্য যখন হাত নাড়াচ্ছে তখন বুকের মাঝে গোল উষ্ণ দুইটা বলের নাচন মাহফুজের চোখে পড়ছে। একটু আগে সাবরিনা কে দেওয়া নিজের উপদেশটা যেন মাহফুজ নিজেই ভুলে গেছে। নিজেকে নিজে সামলানোর চেষ্টা করে মাহফুজ। এইবার ছক্কার গুটি চালার কথা সাবরিনার। সিনথিয়া হাসতে হাসতে টিজ করে, আপু দেখিয়ে দে তুই চাইলে পারিস ছক্কা মারতে। দেখিয়ে দে কিসমে হ্যায় কিতনা দম। সবাই হেসে উঠে। সাবরিনা ছক্কার জন্য গুটি নাড়ায় সাথে নড়ে সাবরিনার বুকের ভিতর লুকিয়ে থাকা খরগোশ দুইটা। পার্পল শার্টের ভিতর মনে হয় জ্যান্ত যেন। মাহফুজ হঠাত দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। সিনথিয়ার দিকে তাকায়। সিনথিয়া ওর দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের কোণে দুষ্টমির হাসি। মাহফুজ চমকে যায়, একটা অপ্রস্তুত হাসি দেয় তাতে সিনথিয়ার দুষ্ট হাসি আর বিস্তৃত হয়।
খেলায় এর মাঝে টুইস্ট আসে। নুসাইবার হাতে সিনিথিয়ার দুইটা গুটি কাটা পরে পর পর। সিনথিয়া বলে ফুফু প্লিজ প্লিজ প্লিজ। নুসাইবা গম্ভীর মুখে বলে আর করবি টিজ হু ইজ দ্যা বেস্ট, বল আর করবি। এই বলে গুটি কেটে দেয়। সিনথিয়া গুটি হারিয়ে চোখ মুখ কাল করে ফেলে। মাহফুজ বলে কি হল সিনথিয়া কথার মেশিনগান কই গেল। হাসির রোল উঠে চারপাশে। সিনথিয়া পাশে থাকা একটা সোফার কুশন ছুড়ে মারে মাহফুজের দিকে। মিজবাহ করিম বলে উঠেন সিনথিয়া ছোটকাল থেকে হেরে যাওয়া একদম পছন্দ করে না। নুসাইবা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন মনে আছে একবার কলেজ রেসে হেরে গিয়ে কলেজ মাঠে বসে কি কান্নাকাটি শুরু করল এরপর আমাদের সবাই মিলে ওকে বুঝাতে হয়েছিল। সাবরিনা এইবার যোগ করে উঠল, মনে আছে আমার ইন্টার পরীক্ষার পর সবাই মিলে যখন মালয়েশিয়া গেলাম সেইবার ঐখানে হোটেলে রাতে লুডু খেলার সময় যতক্ষণ না নিজে জিততে পারছে ততক্ষণ আমাদের সবাই কে খেলতে বাধ্য করল। হাহাহা করে হাসির রোল চারিদিকে। সিনথিয়া বলে আমি খেলব না, সবাই আমার বিপক্ষে। এবার সাফিনা করিম মুখ খুললেন, নাহ মা। সবাই তোমার উলটো দিকে থাকলেও আমি তোমার পক্ষে। সিনথিয়া উঠে মা কে জড়িয়ে ধরে বলে, আম্মু তুমি একমাত্র এই বাসার ভাল লোক। সাদমান বলে উঠে আরেহ আমি কি করলাম, আমাকে খারাপ লোকের পক্ষে ফেললে কেন। সিনথিয়া বলে দুলাভাই আপু যখন আমাকে টিজ করল তখন তো কিছু বললেন না। সাদমান হাসতে হাসতে বলে সাবরিনা করিমের বিপক্ষে কথা বলার সাহস আমার নাই, এই বলে আত্মসম্পর্ণের ভংগিতে দুই হাত উপরে তুলল। আরশাদ এইবার পাশ থেকে হাসতে হাসতে বলে আই ডু এগ্রি উইথ ইউ অন দিস। সিনথিয়া এইবার মাহফুজের দিকে তাকিয়ে বলে দেখেছ দুলাভাই কি বলেছে। এই করিম ফ্যামিলির মেয়েরা কার বশ মানে না, সেটা যেন মনে থাকে। এই বলে সাবরিনা আর নুসাইবার দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। সিনথিয়ার সাথে চোখ মেলাতেই সাবরিনা আর নুসাইবার নিজেদের ভিতরে একটা অস্বস্তি কাজ করে কারণ তারা জানে করিম ফ্যামিলির মেয়েদের সাদমান আরশাদ বশ করতে না পারলেও আরেকজন ঠিক পেরেছে। সাবরিনা তাই কথা ঘুরানোর জন্য বলে এত কথা না বলে পরের চালটা দে সিনথিয়া, নাকি গুটি কাটা পড়ায় ছোট কালের মত এইবার আবারো কান্নাকাটি শুরু করবি। নুসাইবাও সেখানে তাল দেয়। সিনথিয়া দৌড়ে নিজের জায়গায় এসে বসে পড়ে বলে হারার আগে হার মানে না সিনথিয়া করিম। সাফিনা বলে উঠেন দ্যাটস দ্যা স্পিরিট সিনথিয়া। হারার আগে হারা যাবে না। খেলা আবার জমে উঠে। মাহফুজ টের পায় নুসাইবা খেলায় ওকে ফেভার করছে। একবার গুটি খাওয়ার চান্স পেয়েও খায় নি। সিনথিয়া তখন প্রতিবাদ করলেও নুসাইবা বলে আরে এই গুটি খেলে আমার গুটি সেফ প্লেস থেকে বের হয়ে যাবে আর নিচে সাবরিনার গুটি আছে তখন সেটা আমাকে খেয়ে ফেলতে পারে। আর নতুন জামাই বলে ওকে একটা চান্স দেওয়া যায়। তখন আর সিনথিয়া কথা বাড়ায় না। খেলার চাল পাল্টা চালে উত্তেজনা বাড়ে। সবার পরে গুটি তোলার পরেও মাহফুজ ধীরে ধীরে আগাতে থাকে। নুসাইবা সিনথিয়ার কাছে একের পর এক গুটি হারিয়ে পিছিয়ে পড়ে। সাবরিনার গুটি মাহফুজের সামনে, মাহফুজ একবার ভাবে ছেড়ে দিবে কিনা কিন্তু একটু আগে সাবরিনা কে দেওয়া নিজের উপদেশ মনে পড়ে ওর। সবার সামনে নরমাল আচরণ করতে হবে। খুব কম্পিটিশন হচ্ছে এর মধ্যে তাই সাবরিনা কে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। গুটি খেয়ে দিল। তবে তার পর মূহুর্তে সিনথিয়া আর নুসাইবার উল্লাসের মাঝে সাবরিনার চোখে এক ধরণের আশা ভংগের ছাপ পড়ল। সাবরিনা কি আশা করেছিল? ভাবে মাহফুজ।
খেলা শেষ হয়েছে। হাড্ডা হাড্ডি লড়াই শেষে মাহফুজ ফাস্ট হয়েছে। তবে সাবরিনা আর নুসাইবা সুযোগ পাওয়ার পরেও ওর গুটি না কাটায় এটা হয়েছে নাহলে লাস্ট হতে হতো মাহফুজ কে। সিনথিয়া এইটা নিয়ে হইচই করেও পার পেল না বরং হাসাহাসি হলো। এর মাঝে রাত প্রায় সাড়ে নয়টা বেজে গেছে। রাতের খাবারের আয়োজনের জন্য সাফিনা গেল কিচেনে। সাবরিনা সিনথিয়া আর নুসাইবা গেল সাফিনা কে কিচেনে হেল্প করতে। আসমা বেগম গেলেন এশার নামাযে। বাড়ির ছেলেরা ড্রয়িং রুমে বসে আলোচনায় মেতে উঠল। শেয়ার মার্কেট, পলিটিক্স বিশ্বরাজনীতি সব নিয়ে। নতুন জামাই হিসেবে মাহফুজ কিছুটা আটসাট হয়ে বসে আছে। মাহফুজ কখনোই তথাকথিত ছাত্রনেতাদের মত ছিল না। ছোট বেলা থেকে বই পড়তে ভালবাসত, মুভি দেখত। ফলে আশেপাশের নানা বিষয়ে তার জানাশোনা কম না। তাই আলোচনার মাঝে মাঝে মাহফুজ যখন এক দুইটা তথ্য যোগ করতে শুরু করল তখন মাহফুজ টের পেল বাকি তিনজনের চোখে বিস্ময় এড়াচ্ছে না। মাহফুজের মনে পড়লে মাঝে একদিন সিনথিয়া বিলেতে থাকার সময় যে কথা হয়েছিল। সিনথিয়া বলছিল সবার ধারণা মাহফুজের টল ডার্ক হ্যান্ডসাম লুকের কারণে সিনথিয়া পটেছে। এখন মাহফুজ আলোচনায় নানা তথ্য সংযোগ ঘটিয়ে দেবার পর মিজবাহ, আরশার আর সাদমানের ধারণায় এক ধরনের পরিবর্তন আনছে সেটা টের পায় মাহফুজ। ঢাকার এলিট সোসাইটির প্রতি এক ধরনের কৌতুক জেগে উঠে মাহফুজের মনে। আগেও খেয়াল করেছে সে, এই এলিট সোসাইটির লোকজন তাদের বাইরে থেকে উঠে আসা সবাই কে ভাবে ক্লাসহীন। শিল্প সাহিত্য জ্ঞান সব যেন এদের দখলে। এর বাইরে থেকে আসা কারো এর উপর অধিকার নেই। আর কেউ যদি কিছু জানে তাতে এদের বিস্ময় মাঝে মাঝে এত বেশি হয় যে এতে খুশি হবে না রাগ হবে বুঝে উঠতে পারে না মাহফুজ। তবে নতুন জামাই মাহফুজ। শ্বশুড় বাড়ির অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। তার উপর বিয়ের আগে বড় ভাই একটা উপদেশ দিয়েছিল। শ্বশুড় বাড়ির লোকজনদের মানিয়ে চলতে পারলে বউ এমনিতে ৮০ ভাগ ম্যানেজ হয়ে যায়। মাহফুজ তাই আড্ডায় অংশ নিতে থাকে।