অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৩৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289773.html#pid6289773

🕰️ Posted on August 17, 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1289 words / 6 min read

Parent
সাফিনা করিম, সিনথিয়া আর সাবরিনা কে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখে বারান্দায় উঠে আসে মাহফুজ। বারান্দায় হালকা একটা বাতাস। মাহফুজ কে উঠতে দেখে উসখুস করে উঠে সাবরিনা। কি ভাবে কথা বলা যায় মাহফুজের সাথে উপায় খুজে পায় না। এদিকে সিনথিয়া কথা বলতে চায় সাফিনার সাথে। তবে নিজের মা কে চিনে সিনথিয়া। যদিও সন্ধ্যায় বলেছে সব বলবে ওকে তবে যদি নিজ থেকে জোর না করে তাহলে এড়িয়ে যাবে। অল্প তিন চারদিন সময়ের ভিতর খবর বের করতে হবে। আবার এখন সাবরিনার সামনেও জিজ্ঞেস করলে নিশ্চিত মা রাগ করবে। সিনথিয়া ভাবে আপুর সাথে পরে শেয়ার করা যাবে তবে তার আগে একটু পুরো ব্যাপারটা শুনতে হবে। সিনথিয়ার মনে হয় আজকে রাতের মাঝে শুনতে হবে কথাটা। সাফিনা ডাইনিং টেবিল গোছগাছ করছেন উঠে, সিনথিয়া সাবরিনা কে বলে। আপু তুই বস আমি আম্মু কে একটু হেল্প করি। সাবরিনা বলে কি ব্যাপার বিয়ে করে এত চেঞ্জ তোর। সিনথিয়া একটু হেসে বলে না, কয়দিন পর তো চলে যাচ্ছি তখন তুই হেল্প করার সুযোগ পাবি আমি তো পাব না। সাবরিনা কিছু বলে না। সাবরিনা নিজেও সুযোগ খুজছিল। সিনথিয়া উঠে যেতে দুই মিনিট চুপ করে বসে অপেক্ষা করল। তারপর উঠে বারান্দায় গেল। চাইলেও যেন নিজের পা কে আটকে রাখার সুযোগ ছিল না। সাবরিনা কে বারান্দায় আসতে দেখে মাহফুজ মনে মনে বলল যা শালা! মাহফুজ একটা জিনিস বুঝে। বেশি ভাল, ভাল না। একসাথে সিনথিয়া, নুসাইবা আজকে যেভাবে উতলা হয়ে উঠেছে তার সাথে এখন সাবরিনা যোগ হলে প্যাচ লেগে যাবে। সাবরিনা বারান্দায় এসে মাহফুজের দিকে তাকিয়ে বলল শোন। মাহফুজ তাকালো। এরপর সাবরিনা যা বলল তার জন্য সাবরিনা প্রস্তুত ছিল না, হঠাত ওর মুখ দিয়ে একের পর এক বাক্য বের হওয়া শুরু করল। এইসব বলতে তো ও আসে নি? সাবরিনা বলতে থাকল আজকে ডাইনিং টেবিলে খাবার সময় তুমি সিনথিয়ার সাথে কি করছিলে? বুঝলাম তোমাদের বিয়ে হয়েছে তাই বলে সবার সামনে খাবার টেবিলে? সব কিছুর একটা স্থান আছে। সিনথিয়া নাহয় বেশি ইমোশনাল তোমার তো একটু হলে ধৈর্য্য ধরা উচিত ছিল। নাকি সেক্স তোমার কাছে সব কিছু মনে হয়। মা বাবা, নানী, ফুফু এদের সবার সামনে ধরা পড়লে কি হতো? জীবনে সেক্স সব কিছু না। এটা তো অন্তত তোমার বুঝা উচিত। একের পর এক কথা শুনিয়ে দিল সাবরিনা। মাহফুজ কোন উত্তর দেবার আগে নিজে থেকে বারান্দা থেকে বের হয়ে গেল সাবরিনা। বের হবার পর ওর মনে হল কি বলল এইসব ও? ওতো চেয়েছিল মাহফুজের সাথে একটু কথা বলতে। কিন্তু ডাইনিং এ সিনথিয়ার সেই সুখতৃপ্ত মুখ খানা ওর বুকে যে ইর্ষা জাগিয়েছিল সেটাই যেন হুল হয়ে ফুটলো মাহফুজের গায়ে। মাহফুজের মুখটা সাবরিনার আচমকা ঝাড়িতে অন্ধকার হয়ে গেল। হঠাত করে এটা কী হলো? কেউ যে খেয়াল করবে সেটা মাথায় থাকলেও এই ধরা পড়ার ভয়টাই বরং আর বেশি উত্তেজনা বাড়িয়েছিল তখন। তবে সাবরিনার কাছে যে ধরা পড়বে বুঝে নি। মনে মনে একটা ভয় কাটে অন্য একটা জিনিস ভেবে। সিনথিয়ার ব্যাপারটা ধরতে পারলেও নুসাইবারটা পারে নি সাবরিনা। নাহলে কেলেংকারি হয়ে যেত। এরপর আর এমন কিছু করা যাবে না। রিস্কি কিছু করবে না বলে নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করল মাহফুজ। এতকিছুর পর সিনথিয়া কে পেয়েছে। অল্প একটু থ্রিলের জন্য আর এই পাওয়াটা কে রিস্কের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। ওর এইসব ভাবনার মাঝে ধূম করে কারেন্ট চলে গেল। আজকাল বেশ কারেন্ট চলে যাচ্ছে। এই রাত সাড়ে এগারটার সময়ো লোডশেডিং। তবে সিনথিয়াদের এই পশ এপার্টমেন্টে অবশ্য সমস্যা নেই। কারেন্ট যাবার দশ সেকেন্ডের মাঝে লাইট গুলো চালু হয়ে গেল। নিচে বিশাল জেনারেটর বসানো আছে। কারেন্ট গেলে বাসা গুলোতে বিদ্যুৎ চলে আসে। তবে এসি, ফ্রিজ, লিফটের মত ভারী জিনিস গুলোতে তখন কারেন্ট সাপ্লাই যায় না। লাইট, ফ্যান, টিভি এইসব অবশ্য চলে। এদিকে সাবরিনা মাহফুজ কে ঝোকের বশে ঝাড়ি দিয়ে নিজের ভিতরে ভিতরে লজ্জায় মারা যাচ্ছে। কি বলতে গেল আর কি বলে আসল। মনে হচ্ছে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যায়। সাদমান কে টেক্সট পাঠালো আর কতক্ষণ লাগবে তেল নিতে। উত্তর আসল আর ৩০/৩৫ মিনিট লাগবে তারপর ড্রাইব করে আসতে আর আট নয় মিনিট সব মিলিয়ে ৪০/৪৫ মিনিট এর মত। সাবরিনার আর তর সইছে না। ওদের এই এপার্টমেন্টের নিচে একটা ওয়েটিং রুম মত আছে। সাবরিনার মনে হচ্ছে নিচে গিয়ে সেই ওয়েটিং রুমে একা একা অপেক্ষা করে। এদিকে সিনথিয়া দুইবার তার মায়ের আশপাশে ঘুর ঘুর করতে করতে জিজ্ঞেস করেছে আম্মু তোমার সাথে কথা আছে। সাফিনা করিম জিজ্ঞেস করেছেন কি কথা? সিনথিয়া উত্তর দিল সন্ধ্যা তুমি বলেছিলে সব বলবে। সাফিনা অযুহাত দেন, এখন? সাবরিনা আছে মাহফুজ আছে তোর বাবা আছে। সিনথিয়া বলে মাহফুজ কে আমি কাজের অযুহাতে বাইরে পাঠাবো দরকার হলে আর আপু চলে যাবে একটু পর। বাবা ঘুমে। এখন বোমা পড়লেও বাবা জাগবে না। সাফিনা বলেন কালকে বলি? সিনথিয়া বলেন আম্মু তুমি শুধু শুধু দেরি করতে চাচ্ছ। আমি আছি আর তিন চার দিন। আমার শোনা দরকার। আই ফিল গিলটি। তুমি একা একা কষ্ট পাচ্ছ আর আমি বিদেশে বসে বসে ডিগ্রি নিচ্ছি। তুমি যদি শেয়ার না কর তাহলে আমি যাব না। আই উইল স্টে এন্ড হেল্প ইউ। সিনথিয়ার চোখে মুখে ওর প্রতিজ্ঞা ফুটে উঠল। সাফিনা করিম খানিকটা অসহায় বোধ করেন। সারা জীবন সব মেয়েদের সামনে সব সময় দৃঢ় ছিলেন। বিপদে আপদে ঝড় ঝাপটায় হাল ধরে ছিলেন। পুরাতন যুগের মানুষ তিনি। সন্তানের সামনে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করতে একটু অস্বস্তি বোধ করেন। সিনথিয়া বলে মা??? ওর গলায় অস্থিরতা। সাফিনা করিম জানেন সিনথিয়ার জেদ। নুসাইবা তাকে আগেই অনুরোধ করেছিল মিজবাহ এবং দুই মেয়ে কে জানাতে। সাফিনা তখন উড়িয়ে দিয়েছেন। এই ব্যাপারে অন্য কাউকে ব্যতিব্যস্ত করার ইচ্ছা তার নেই। নুসাইবা তার বান্ধবীর মত। হয়ত এই জন্য তাকে বলা। তবে আজকে নুসাইবা যাবার সময় বলে গেছে, ভাবী যা হয় ভালোর জন্য হয়। আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে বলছিলাম। আজকে সিনথিয়া জেনে গেছে। সাফিনা তখন উত্তর দিয়েছিলেন, সিনথিয়া অনেক ছোট। ও কি করবে জেনে। নুসাইবা তখন বলেছে তোমার চোখে ও ছোট কিন্তু ও আর ছোট নেই। ভিন্ন এক দেশে গিয়ে নিজে নিজে পড়ছে, সব সামলাচ্ছে। আমরা সবাই বিরোধিতা করার পরেও মাহফুজ কে বিয়ে করার ব্যাপারে আমাদের সবাই কে রাজি করিয়েছে। সাফিনার নুসাইবার বলা কথা গুলো ভাবতে ভাবতে মনে হ্য আসলেই অনেক বড় হয়ে গেছে সিনথিয়া। মেয়েরা একটা সময় মায়েদের বান্ধবী হয়ে যায়। হয়ত সিনথিয়ার সেই সময়টা এসেছে। সাফিনা বলেন ওকে আমি তোকে সব বলব, আজকে রাতেই বলব। তবে সাবরিনা বা মাহফুজের সামনে না। সিনথিয়া, সাফিনার গালে একটা চুমু খেয়ে বলে ওকে আম্মু। আপু একটু পর যাবে আর আমি মাহফুজ কে এক দেড় ঘন্টার জন্য তখন বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সাফিনা বলেন এই রাতে জামাই কে এক দেড় ঘন্টার জন্য কই পাঠাবি? সিনথিয়া হেসে বলে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। মনে নেই তোমাদের জামাই পলিটিক্স করে। পলিটিক্স করা ছেলেরা রাত দুইটা তিনটার আগে বাসায় ফিরলে কি পলিটিক্স করল। মা মেয়ে দুইজনে হেসে উঠে। সাবরিনা ঠিক করে এইখানে আর এক মূহুর্ত থাকা যাবে না। মাহফুজ ওর দিকে যতবার আড়চোখে তাকাচ্ছে ততবার ওর মনে হচ্ছে লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে। তাই বলল, আম্মু সাদমান নিচে চলে আসবে পাচ মিনিটে। আমি নিচে যাই। সাফিনা বলল সাদমান আসুক তারপর যা, নিচে শুধু শুধু অপেক্ষা করবি কেন। সিনথিয়া বলল আম্মু আপু কে যেতে দাও তো। আগামীকাল অফিস আছে তাড়াতাড়ি যাক। সাবরিনা বলে হ্যা। সিনথিয়া বলে সাদমান ভাই আসতে কয়েক মিনিট দেরী করলে নিচের ওয়েটিং রুমে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করবে। আর মাহফুজ আপুর সাথে যাও তো। সাদমান ভাই আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর আপুর সাথে। আর আমি কয়েকটা জিনিসের লিস্ট পাঠাচ্ছি আসার সময় নিয়ে আসবে ঐগুলা। মাহফুজ অবাক হল এই রাতে আবার কি জিনিস দরকার? তবে সিনথিয়া চোখের ইশারা দিল যাবার জন্য। এদিকে সাবরিনার মনে হল একি বিপদ। যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। সাবরিনা বার বার না না করে বলে আরে লাগবে না। বাসার উপর থেকে নিচে নেমে যাবে এতে আবার কাউকে লাগবে নাকি। আর নিচে ওয়েটিং রুম আছে, তার সামনে গার্ড রুম। এর থেকে সেফ কি হয়। তবে সিনথিয়া তখন মাহফুজ কে পাঠানোর জন্য ব্যস্ত। ওর সাফিনার সাথে কথা বলবার জন্য একাকী বাসা দরকার। সাবরিনা আর না করল না কারণ এর থেকে বেশি না করলে ব্যাপারটা সন্দেহজনক মনে হবে। দরজা দিয়ে বের হবার সময় সিনথিয়া মাহফুজ কে ফিস ফিস করে বলল, এক দেড় ঘন্টার আগে ফেরত এসো না? মাহফুজ অবাক হলো। তবে মাহফুজ জানে কিছু কিছু সময় সিনথিয়া কে প্রশ্ন করতে নেই, ব্লাইন্ডলি ট্রাস্ট করতে হয়। কারেন্ট নেই তাই লিফট চলছে না। তাই সাবরিনার দিকে তাকিয়ে মাহফুজ বলল চলুন। সাবরিনা মাহফুজের দিকে তাকালো সেই দৃষ্টিতে মাহফুজ যেন সাবরিনার অগ্নি দৃষ্টি দেখতে পেল।
Parent