ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ৪৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71326-post-6240835.html#pid6240835

🕰️ Posted on June 16, 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 721 words / 3 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)  উনপঞ্চাশ পরিচ্ছেদ: ভোটের দিন ভোটের দিন সকাল ছ’টা বাজতেই খিদিরপুরের একটা পুরনো গোডাউনের ভিতরটা ভরে গিয়েছিল। আলো কম, শুধু কয়েকটা টিউবলাইট জ্বলছিল। রুবিনা গ্যাংয়ের প্রায় চল্লিশজন লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল। সবাই কালো বা গাঢ় রঙের জামা-প্যান্ট পরা, মুখে মাস্ক বা মাফলার জড়ানো। অংশুমান ঠিক সাড়ে ছ’টায় গোডাউনে ঢুকল। তার হাতে একটা কালো ব্যাগ। সে সামনে এসে দাঁড়িয়ে সবাইকে একবার চোখ বুলিয়ে বলল, “আজকের কাজ স্পষ্ট। যার যে বুথ অ্যালট করা হয়েছে, সেখানে যাবে। কোনো বুথে যদি লোক কম লাগে, তাহলে সাথে সাথে খবর দিবে। EVM-এর ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবে করবে। কোনো ভুল হবে না।” সে ব্যাগটা খুলে ভিতর থেকে কয়েকটা মোবাইল, সিম কার্ড আর নগদ টাকা বের করে দিতে লাগল। প্রত্যেককে আলাদা আলাদা করে বলে দিল কোন বুথে যেতে হবে এবং সেখানে কীভাবে কাজ করতে হবে। “বুথ নম্বর ১৪, ১৭ আর ২২-এ EVM জলে ফেলতে হবে। বাকি বুথগুলোতে যতটা সম্ভব ফলস ভোট দিতে হবে। ভোটার কম এলে ভয় দেখিয়ে ফেরত পাঠাবে।” লোকগুলো একে একে বেরিয়ে যেতে লাগল। অংশুমান নিজে একটা সাদা প্রাইভেট গাড়িতে উঠে শহরের বিভিন্ন দিকে ঘুরতে শুরু করল। বুথ নম্বর ১৪ (সকাল ৮:৪৫) বুথের সামনে ভোটারের লাইন ছিল খুবই কম। হঠাৎ করে পাঁচ-ছয়জন অচেনা লোক এসে বুথের ভিতরে ঢুকে পড়ল। তারা প্রথমে প্রিসাইডিং অফিসারকে ধমক দিয়ে বলল, “আজ ভোট হয়ে গেছে, বাড়ি যান।” যখন প্রিসাইডিং অফিসার আপত্তি করল, তখন তাদের একজন তার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, “আপনার মেয়ে কলেজে যায়। আজ সন্ধ্যার পর যদি বাড়ি ফিরতে না পারে, তাহলে দোষ কার?” প্রিসাইডিং অফিসার চুপ করে গেল। এরপর তারা EVM মেশিনটা তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল। একটা অ্যাম্বাসেডর গাড়িতে উঠে সোজা চলে গেল নদীর দিকে। গাড়ি থামিয়ে তারা EVMটা নদীর জলে ছুড়ে ফেলে দিল। দূর থেকে পানির ছপ করে শব্দ হল। বুথ নম্বর ৭ (সকাল ৯:৩০) এখানে ভোটার একটু বেশি ছিল। রুবিনা গ্যাংয়ের লোকেরা প্রথমে বুথের আশেপাশে দাঁড়িয়ে ভোটারদের ভয় দেখাতে লাগল। “আজ ভোট দিলে বাড়ি ফিরতে পারবে না” — এই কথা বলে অনেককে ফেরত পাঠানো হল। যারা জোর করে ভোট দিতে চাইছিল, তাদের মধ্যে দুজনকে মারধর করা হল। একজনের মাথা ফাটিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল। এরপর তারা নিজেরাই লাইনে দাঁড়িয়ে একের পর এক ফলস ভোট দিতে লাগল। প্রত্যেকে দু-তিনবার করে ভোট দিচ্ছিল। বুথ নম্বর ২২ (সকাল ১০:১৫) এই বুথের সামনে একটা ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হল। একটা পেট্রোল বোমা ফাটানো হয়েছিল রাস্তার একপাশে। শব্দটা খুব জোরে ছিল না, কিন্তু ধোঁয়া আর আগুন দেখে আশেপাশের মানুষ ভয় পেয়ে পালাতে লাগল। অনেক মহিলা আর বয়স্ক ভোটার ভোট দিতে আসার পথেই ঘুরে ফিরে গেল এরপর রুবিনা গ্যাংয়ের লোকেরা বুথের ভিতরে ঢুকে পড়ে বাকি ভোটারদের তাড়িয়ে দিল এবং নিজেরা ফলস ভোট দিতে শুরু করল। অংশুমান গাড়িতে বসে একের পর এক আপডেট নিচ্ছিল। তার মোবাইলে মেসেজ আসছিল: “বুথ ১৪ — EVM জলে।” “বুথ ৭ — ১২০+ ফলস ভোট হয়ে গেছে।” “বুথ ২২ — বোমা মেরে লোক কমিয়ে দিয়েছি।” সে শুধু “প্রসিড” লিখে রিপ্লাই দিচ্ছিল। দুপুর একটার দিকে সে একটা গাড়ি থামিয়ে একটা বুথের কাছে গেল। সেখানে তার লোকেরা বুথ ক্যাপচার করে রেখেছে। ভোটার প্রায় নেই। অংশুমান ভিতরে ঢুকে একজন লোককে বলল, “আরও দশ-বারোটা ভোট দাও। তারপর চলে যাবে।” লোকটা মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে দাদা।” সন্ধ্যা ছ’টার দিকে ভোট শেষ হয়ে গেল। বিন্দুবালা দেবীর বাড়ির ছাদে আলো জ্বলছিল। নিচ থেকে ঢোলের শব্দ আর “রানি সামন্ত জিন্দাবাদ” স্লোগান আসছিল। বিন্দুবালা ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার পাশে ব্রজদাসী আর রানি। বিন্দুবালা খুব খুশি মুখে বললেন, “আজ ভোটার খুব কম এসেছে রে। এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে।” অংশুমান পাশে দাঁড়িয়ে বলল, “মাসী, ভোটার কম আসাটা আমাদের সুবিধাই হয়েছে।” বিন্দুবালা হেসে বললেন, “আমি জানতাম তুই ঠিকই করবি। আজ যা হয়েছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে জয় আমাদেরই। মিতালি সেন যতই শাড়ি আর টাকা বিলিয়েছে, শেষ পর্যন্ত দেখবে — সব ওলটপালট হয়ে গেছে।” তিনি রানির দিকে তাকিয়ে বললেন, “শুনেছিস রানি? আজকের পর তুই MLA হতে যাচ্ছিস।” রানি চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। সে শুধু মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ মাসী…” বিন্দুবালা অংশুমানের কাঁধে হাত রেখে বললেন, “তুই যখন বলছিস আমরা জিতব, তখন আমি পুরোপুরি নিশ্চিত। আজকের পর আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠব।” অংশুমান হালকা হেসে বলল, “হ্যাঁ মাসী। আমরা জিতবই।” নিচ থেকে ঢোলের শব্দ আরও জোরে বাজতে লাগল। লোকেরা চিৎকার করে স্লোগান দিচ্ছিল। বিন্দুবালা ছাদের রেলিং ধরে শহরের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আজকের পর সবকিছু বদলে যাবে।” অংশুমান পাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ শুনছিল। তার মুখে কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না। শুধু গভীর, শান্ত একটা দৃষ্টি। সে জানত — বিন্দুবালা যা ভাবছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়েছে আজ। আর সেটার পুরো হিসেব এখনো তার হাতেই আছে। ভোট শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আসল খেলা এখন শুরু হবে।
Parent