দীক্ষা লাভ - এক মায়ের পরিবর্তন - অধ্যায় ৪২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-62413-post-6294979.html#pid6294979

🕰️ Posted on August 23, 2026 by ✍️ Mr.pkkk (Profile)

🏷️ Tags:
📖 750 words / 3 min read

Parent
Update :20(D)                  বিয়ে বাড়ির হৈ চৈ স্তিমিত হয়ে আসছে অন্ধকার পথ চলতি ঊষা ও গুরুদেবের কাছে।গুরুদেবের কাঁধে ভর দিয়ে ঊষা অঝোরে কান্নার সাথে  খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে চলছে। অভুক্ত পেট খিদেয় দাউ দাউ করে জ্বলছে।কত স্বপ্ন ছিল, কত আশা নিয়ে ঊষা আজ উপস্থিত হয়েছিল।এক নরকের কীটের লালসা সব কিছু তছনছ করে দিল মুহুর্তে ।স্তনের লালচে দাগ গুলো সব কিছুর সাক্ষী।এলোমেলো  চুলের গোছা প্রমান দিচ্ছে কি ভয়ানক ঝড় বয়ে গেছে ঊষার উপর দিয়ে।এসব ভাবতেই কান্নার বেগ তীব্র হচ্ছে ।সাথে একটাই কথা -- আমার কি হইব.........।      ঊষাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে রক্তাক্ত পরাণের কথা গুলো,  -- তোরে  দেইহা নিমু, ন্যাংটা কইরা সারা পাড়া ঘুরামু........এই  পতিজ্ঞা করতেচি তোরে তোরে............।       সেই মুহুর্তেই গুরুদেব শেষ আঘাতটা হানে, পরাণের মুখ জুড়ে এমন একটা লাথি মারে যে পরাণ আর টু করার সময় পায় না।লাথির পর লাথি সাথে অশ্রাব্য গালি। গল গল করে নাক মুখ থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে।ঊষা না আটকালে হয়ত রাগের মাথায় খুন করে ফেলত। এখনও বলা যায় না পরাণ বেঁচে আছে না মারা গেছে।এসব ভাবতেই হিম হয়ে আসছে ঊষার দেহ।কি হবে তার? হয়ত এতক্ষণ সবাই সব জেনে গেছে, হয়ত পরাণ আর নেই, পুলিশ আসবে একটু পরেই।         গুরুদেবের মনটাও ভয়ে গুটিয়ে আছে, হয়ত উনি ভুল করেননি কিন্তু আইন কি তা মানবে? তবু এই মুহুর্তে উনি ঊষাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন-- তোর কোন ভয় নাই, তুই কুনু দোষ করস নাই, আমি সব সামলাই নিমু।তুই চুপ কর, ভাববার দে আমারেএএ।          এর মাঝেই পেছন দিক থেকে জনকতক মানুষের দৌড়ানোর আওয়াজ পেল তারা, তাদের দিকেই দৌড়ে আসছে লোকগুলো। ভয়ে দুজনেই কুচকে গেল হয়ত তাদেরকেই ধরতে এসেছে। এসব ভাবতেই ঊষা শক্ত করে পেচিয়ে ধরল গুরুদেবকে, আর বাঁচার উপায় নেই।গুরুদেব নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই মনে বল পাচ্ছেন না।লোকগুলো প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছ হাতের টর্চ গুলো পায়ের কাছাকাছি, একটা জড়ালো ফুসফুস আওয়াজ।লোকগুলো সমান ভাবে দৌড়ে এগিয়ে আসছে, ঊষা ভয়ে চোখ বুঝে ফেলেছে এখুনি ধরে নিয়ে যাবে।পায়ের থপ থপ আওয়াজ গুলো বুকে গিয়ে লাগছে, একদম কাছে চলে এসেছ, কিন্তু অবাক করে লোকগুলো পার করে গেল দুজনকে।ভয়ে গুরুদেবেরও গলা শুকিয়ে উঠেছে,তবু সাহস করে বলে উঠলেন-- কি হইচে তুমাগো.......        দৌড়ানো অবস্থাতেই তাদের মধ্যে একজন বলে উঠল-- ডাক্তার ডাকপার যাইতেচিইইইইইইইইই গুরুদেব, ক্ষমা কইরেন এহন সুময় নাই , তাড়াতাড়ি ডাক্তার না আইনলে কাকারে বাঁচান যাইবওওওওওওওও নাহহহহহহহহহহ।              .... কাকারে বাচান যাইব না?... ঊষার হৃদকম্পন শুরু হয়ে গেল।স্পষ্ট এটা সুকদেবের গলা। সুকদেব পরাণকে কাকা বলে ডাকে।ভয়ে পা থরথরানিতে কেঁপে উঠল।গুরুদেবও অনুমান করতে পারলেন ওরা পরাণের কথাই বলছে হয়ত এখনো বেঁচে আছে কিন্তু যদি.......।         দুজনে কাপা পায়ে স্থির দাঁড়িয়ে, নড়ার শক্তি নেই, ভবিষ্যৎ কল্পনা করেই শিউরে উঠছে।ঊষার কাঁপতে থাকা হাতখানা শক্ত করে ধরে গুরুদেব ভাঙা গলায় বললেন     - আ আ আর  উপায় নাই রেএএএ,এহনি এই গিরাম ছাইড়া পালান লাইগব,নইলে..........   ।         বিদ্যুৎতের ঝটকা খাওয়ার মতো ঊষা হাতখানা ছাড়িয়ে নিল।   -- নাহহ না না না     গুরুদেব ঊষার ঝাটকা খাওয়া হাতখানা পুনরায় ধরে অনুনয় করে বলল     -- তুই বুঝতাচাস না।          -- নাহহ আমি গিরাম ছারবার পারুম না।           -- খুনের মামলা তুই বুঝবার পারচাস?  সারাজনম জেলে পইচা মরা লাইগব ধরা পরলে।কিন্তু এহান থিকা পালাইলে কেউ খুঁজজা পাইব না।        জেলের ভয়ানকতা কল্পনা করে শিরশির করে উঠল ঊষার গা।তবু বলল     --না আমি আমার সংসার ফালাই যাইবার পারুম না।মরি তাও ভালো।              ঊষার কথায় গুরুদেব এক ঝটকায় হাত ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দূরে সরে গেলেন দুহাত মাথায়  দিয়ে ছটফট করতে করতে বলতে লাগলেন          - মরি তাও ভালো!  ওরা তোরে মরবার পর্যন্ত দিব না।তুই ভাববার পারতাচাস না তোর সাথে কি হইব।     -- কি হইব?     ঊষা আপন মনেই বিড়বিড় করে বলে উঠল ভবিষ্যৎ কল্পনা করে।     -- কি হইব? আমারও জানা নাই। ভালো যে কিচু হইব না তা নিশ্চিত।          আবারও গুরুদেব ঊষার কাছে এগিয়ে গেলেন আগের মতো হাত খানা চেপে ধরে নরম সুরে বললেন     - এহন বিপদ।এই বিপদে তোরে একা রাইহা আমি যাইবার পারুম না,আবার এহেনে থাকলে দুইজনই ফাসুম।এর চেয়ে চল না কোন হানে গা ঢাহা দিই।শহরে আমার মেলা চেনা জানা কেউ কিছু করবার পারব না।           ঊষা যেন টলতে শুরু করেছে,টলতে টলতেই থুপ করে ধুলোতে বসে পরল      - কিন্তু আমার অমর? অমরের বাবা? আমার সংসার?     -- এহন নিজেরে বাচান আগে দরকার তুই না থাকলে তোর পুলা তোর সংসার থাইকপ?          ঊষা হ্যাঁ না কিছুই বলল না।গুরুদেব কাছে গিয়ে  মাথায় হাত বুলিয়ে বলল     -- তোর পুলা দোষ করে নাই যে তারে ধইরা নিয়া যাইব বা গিরামের কেউ মারব।          আরও একটু সাহস দেওয়ার জন্য বললেন-    --  অবস্থা অল্প স্বাভাবিক হইলে আমি লোক পাঠাইয়া তোর পুলা শ্বশুর সবাইরে তোর কাছে নিয়া আসুম।          অন্ধকার আকাশপানে অনেকক্ষণ নিরব হয়ে তাকিয়ে রইল ঊষা।হ্যাঁ না কিছুই বলল না।ভেবে চলেছে শুধু,গুরুদেব আরও বিভিন্ন ভাবে মানানোর চেষ্টা করছেন।এর মাঝেই ঊষা একসময় বলে উঠল     -- আমরা যামু কোনে?     ব্যস্ গুরুদেবের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।     - সেই চিন্তা তোর করা লাগব না,শুধু এইটুকু কই কেউ নাগাল পাইব না, চল এইবার উঠি।          ঊষাও মন্ত্রমুগ্ধের মতো উঠে দাঁড়ালো, খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে লাগল গুরুদেবের কাঁধে মাথা রেখে।       (চলবে)     
Parent