কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ২৪

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242481.html#pid6242481

🕰️ Posted on June 19, 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 611 words / 3 min read

Parent
অধ্যায় ২৩ : যে কথা রতনের ছিল না হরিপদ মাস্টারের মৃত্যুর খবরটা কাশীপুরে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগল না। সকালের কুয়াশা পুরো কাটার আগেই প্রায় সবাই জেনে গেল। ⸻ নরুর চায়ের দোকানে ভিড়। ⸻ — কাল বিকেলেও তো দেখলাম। — একদম ভালোই ছিলেন। — ভগবানের ডাকে কারও কিছু করার নেই। ⸻ কথা চলতেই থাকল। চায়ের ভাঁড় থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকল। ⸻ পুকুরঘাটেও একই আলোচনা। ⸻ মঞ্জু কাকিমা বললেন, — এমন মানুষ আর হবে না। ⸻ পারুল পিসি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ⸻ — আমাদের ছেলেবেলায় কলেজে পড়িয়েছেন। ⸻ সবাই যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না। ⸻ রমাপদও খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ⸻ কলেজে যাওয়ার আগে তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে বসেছিলেন। ⸻ হরিপদ মাস্টারের সঙ্গে তার খুব ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও গভীর শ্রদ্ধা ছিল। ⸻ কিন্তু একটা প্রশ্ন বারবার মাথায় আসছিল। ⸻ কাল সকালেই বা উনি কোথায় যাচ্ছিলেন? ⸻ কেন এত ভোরে বেরিয়েছিলেন? ⸻ কেউ জানে না। ⸻ আর ঠিক সেই সময়… রতন উঠোনে বসে ছিল। ⸻ তার সামনে মাটির বাটিতে মুড়ি। ⸻ প্রতিমা রান্নাঘরে। ⸻ সাধারণ সকাল। ⸻ তবু আজ যেন সবকিছু একটু মলিন। ⸻ হরিপদ মাস্টারকে সে খুব কাছ থেকে চিনত না। ⸻ কিন্তু লোকটার মুখ মনে পড়ছিল। ⸻ আর আশ্চর্যভাবে… তার মনে হচ্ছিল লোকটা যেন তাকে কিছু বলতে চাইছিল। ⸻ কিন্তু কী? ⸻ মনে পড়ছিল না। ⸻ একদম না। ⸻ সেদিন বিকেলে গ্রামের লোকজন যখন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিল… রতনও কার্তিকদের বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ⸻ অনেক মানুষ। ⸻ অনেক মুখ। ⸻ অনেক চাপা কথা। ⸻ কার্তিক চুপচাপ বসে ছিল। ⸻ চোখ লাল। ⸻ রতন তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ⸻ কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না। ⸻ তারপর… কোনো কারণ ছাড়াই… রতনের মুখ থেকে একটা কথা বেরিয়ে এল। ⸻ — দাদু জানত। ⸻ কার্তিক চমকে তাকাল। ⸻ — কী? ⸻ রতনও থমকে গেল। ⸻ সে নিজেই বুঝতে পারল না কেন কথাটা বলল। ⸻ — কী জানত? কার্তিক আবার জিজ্ঞেস করল। ⸻ রতন কিছুক্ষণ চুপ। ⸻ তার মাথার ভেতর যেন কুয়াশা। ⸻ — আমি… ⸻ — বল। ⸻ — জানি না। ⸻ সত্যিই জানত না। ⸻ সে কথা ঘুরিয়ে দিল। ⸻ কিন্তু কার্তিকের বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন যেন করে উঠল। ⸻ কারণ দাদু মারা যাওয়ার আগের সন্ধ্যাতেও এমন অদ্ভুত আচরণ করেছিলেন। ⸻ সেই স্মৃতি হঠাৎ আবার ফিরে এল। ⸻ সন্ধ্যা নামতে শুরু করল। ⸻ গ্রামের ওপর ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে এল। ⸻ আর সেই রাতেই… রতন আবার স্বপ্ন দেখল। ⸻ এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট। ⸻ আগুন। ⸻ বটগাছ। ⸻ শিকড়। ⸻ লাল আর হলুদ কিছু একটা মাটির মধ্যে চাপা। ⸻ কেউ একজন মন্ত্র পড়ছে। ⸻ কিন্তু শব্দগুলো বোঝা যাচ্ছে না। ⸻ তারপর… একটা কণ্ঠস্বর। ⸻ এই প্রথম। ⸻ একটা মাত্র শব্দ। ⸻ খুব নিচু স্বরে। ⸻ খুব কাছে থেকে। ⸻ যেন কানের পাশেই। ⸻ “রতন…” ⸻ সে চমকে উঠল। ⸻ স্বপ্নের মধ্যেই। ⸻ কারণ গলাটা তার নিজের না। ⸻ বাবার না। ⸻ মায়ের না। ⸻ কোনো পরিচিত মানুষের না। ⸻ গলাটা ছিল শুকনো। ⸻ পুরোনো। ⸻ যেন বহু বছর ধরে কেউ কথা বলেনি। ⸻ তারপর অন্ধকার। ⸻ সম্পূর্ণ অন্ধকার। ⸻ রতনের ঘুম ভাঙল। ⸻ সে হাঁপাচ্ছিল। ⸻ ঘর অন্ধকার। ⸻ জানলার ফাঁক দিয়ে সামান্য চাঁদের আলো ঢুকছে। ⸻ রমাপদ আর প্রতিমা ঘুমিয়ে। ⸻ সব ঠিক। ⸻ সব স্বাভাবিক। ⸻ তবু তার মনে হচ্ছিল… ঘরে আরও একজন আছে। ⸻ ঠিক বিছানার পায়ের দিকে। ⸻ অন্ধকারে। ⸻ দাঁড়িয়ে। ⸻ সে তাকিয়ে রইল। ⸻ কিছু দেখা গেল না। ⸻ তবু অনুভূতিটা গেল না। ⸻ অনেকক্ষণ পর ধীরে ধীরে আবার শুয়ে পড়ল। ⸻ সকালে উঠে সে রাতের বেশিরভাগ কথাই ভুলে যাবে। ⸻ কিন্তু একটা জিনিস ভুলবে না। ⸻ ঘুম ভাঙার ঠিক আগে… সে যেন কারও ফিসফিসানি শুনেছিল। ⸻ খুব আস্তে। ⸻ খুব ধীরে। ⸻ “এখন আর কেউ নেই…” ⸻ আর বহু দূরে… কুয়াশার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বটগাছটার চারপাশে, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা পুরোনো লাল-হলুদ বন্ধনের কোথাও যেন অদৃশ্য একটা টান আরও একটু শক্ত হয়ে উঠল।
Parent