কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ২৬

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242483.html#pid6242483

🕰️ Posted on June 19, 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 665 words / 3 min read

Parent
অধ্যায় ২৫ : এক মাস পরে হরিপদ মাস্টারের মৃত্যুর পর প্রায় এক মাস কেটে গেছে। শীত আরও নেমেছে। সকালে মাঠে কুয়াশা এমন ঘন হয় যে দশ হাত দূরের মানুষও স্পষ্ট দেখা যায় না। ⸻ কাশীপুর আবার নিজের ছন্দে ফিরেছে। ⸻ লোকজন কাজে যায়। ⸻ কলেজ বসে। ⸻ সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে আড্ডা হয়। ⸻ শুধু একটা জিনিস ধীরে ধীরে বদলেছে। ⸻ রতন। ⸻ আর মজার ব্যাপার হলো… কেউ সেটা খেয়ালই করছে না। ⸻ কারণ পরিবর্তনটা এত ধীরে হয়েছে। ⸻ আজকাল রতন কম কথা বলে। ⸻ কিন্তু যখন বলে… অদ্ভুতভাবে ঠিক কথা বলে। ⸻ প্রথম ঘটনা ঘটেছিল মঞ্জু কাকিমার বাড়িতে। ⸻ অনেকদিন ধরে একটা রুপোর পুরোনো মল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ⸻ ঘর তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে। ⸻ উঠোন খোঁজা হয়েছে। ⸻ পুকুরঘাটও। ⸻ কোথাও নেই। ⸻ রতন সেদিন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। ⸻ হঠাৎ বলল— — চৌকিটার নিচে দেখেছেন? ⸻ মঞ্জু কাকিমা হেসে উঠলেন। ⸻ — ওখানে দশবার দেখা হয়েছে। ⸻ তবু আরেকবার দেখা হলো। ⸻ আর সেখানেই পাওয়া গেল। ⸻ সবাই অবাক। ⸻ রতনও। ⸻ কারণ সে নিজেও জানত না কেন কথাটা বলেছিল। ⸻ এরকম আরও দু-একটা ঘটনা ঘটল। ⸻ ছোটখাটো। ⸻ তেমন গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয়। ⸻ তবু লোকজন বলতে শুরু করল— — ছেলেটার মাথা ভালো। ⸻ — বুদ্ধি বেড়েছে। ⸻ — বাবার মতো হবে। ⸻ আর দূরে কোথাও… কেউ যেন নিঃশব্দে হাসল। ⸻ কারণ এটাই তো দরকার ছিল। ⸻ ভয় না। ⸻ বিশ্বাস। ⸻ সেদিন সন্ধ্যায় রতন মাঠ থেকে ফিরছিল। ⸻ কার্তিক পাশে। ⸻ আকাশে লাল আলো। ⸻ পাখিরা বাসায় ফিরছে। ⸻ হঠাৎ রতন থেমে গেল। ⸻ রাস্তার ধারে একটা ভাঙা কুঁড়েঘরের দিকে তাকিয়ে। ⸻ কার্তিক বলল, — কী হলো? ⸻ রতন উত্তর দিল না। ⸻ কয়েক সেকেন্ড পরে বলল, — এখানে আগে একজন থাকত। ⸻ — থাকত তো। ⸻ — বাঁ পায়ে একটু খুঁড়িয়ে হাঁটত। ⸻ কার্তিক ভুরু কুঁচকাল। ⸻ — তুই জানলি কী করে? ⸻ রতন তাকাল। ⸻ তারপর বলল, — জানি না। ⸻ সত্যিই জানত না। ⸻ কারণ লোকটাকে সে কখনও দেখেনি। ⸻ লোকটা মারা গেছে তার জন্মেরও আগে। ⸻ তবু… তার মাথার ভেতর ছবিটার মতো ভেসে উঠেছিল। ⸻ যেন কোনো স্মৃতি। ⸻ কিন্তু স্মৃতিটা তার নয়। ⸻ সেই রাতে প্রতিমা প্রথমবার সত্যি সত্যি ভয় পেলেন। ⸻ খুব ছোট একটা কারণে। ⸻ রতন খাচ্ছিল। ⸻ ভাত। ডাল। আলুভাজা। ⸻ হঠাৎ সে খাওয়া থামিয়ে দিল। ⸻ মাথা তুলে তাকাল দরজার দিকে। ⸻ কয়েক সেকেন্ড। ⸻ তারপর আবার খেতে শুরু করল। ⸻ প্রতিমা বললেন, — কী দেখলি? ⸻ — কিছু না। ⸻ — তাহলে তাকিয়ে ছিলি কেন? ⸻ রতন থেমে গেল। ⸻ সত্যিই তো। ⸻ সে তাকিয়ে ছিল কেন? ⸻ মনে করার চেষ্টা করল। ⸻ তারপর কাঁপা গলায় বলল— — মনে হলো কেউ দাঁড়িয়ে ছিল। ⸻ ঘরের ভেতর হঠাৎ নীরবতা নেমে এল। ⸻ রমাপদ হাসলেন। ⸻ — সন্ধ্যার আলোছায়া। ⸻ — হয়তো। ⸻ রতন মাথা নেড়ে আবার খেতে লাগল। ⸻ কিন্তু প্রতিমা খেয়াল করলেন— ছেলের হাতটা সামান্য কাঁপছে। ⸻ সেই রাত। ⸻ গভীর রাত। ⸻ সবাই ঘুমিয়ে। ⸻ রতনও। ⸻ কিন্তু আজ স্বপ্নটা অন্যরকম। ⸻ এই প্রথম। ⸻ সে বটগাছটাকে কাছ থেকে দেখল। ⸻ খুব কাছ থেকে। ⸻ এত কাছে আগে কখনও না। ⸻ শিকড়। ⸻ অন্ধকার। ⸻ মাটির গন্ধ। ⸻ আর মাটির নিচে… কিছু একটা। ⸻ লাল। ⸻ হলুদ। ⸻ পচে যাওয়া সুতো। ⸻ ভাঙা খুঁটি। ⸻ মাটির চাপে আধ ডুবে আছে। ⸻ তারপর সেই কণ্ঠস্বর। ⸻ আগের চেয়ে স্পষ্ট। ⸻ অনেক স্পষ্ট। ⸻ “দেখেছ?” ⸻ রতনের বুক ধক করে উঠল। ⸻ সে উত্তর দিল না। ⸻ দিতে চাইলও না। ⸻ কিন্তু তার মুখ নিজে থেকেই খুলে গেল। ⸻ “হ্যাঁ…” ⸻ তারপর সে নিজেই ভয় পেয়ে গেল। ⸻ কারণ সে জানত— স্বপ্নের মধ্যে সে উত্তর দিয়েছে। ⸻ আর সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারের মধ্যে যেন একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস শোনা গেল। ⸻ সন্তুষ্ট। ⸻ অপেক্ষমাণ। ⸻ “ভালো…” ⸻ এই একটুকু শব্দ। ⸻ তারপর সব মিলিয়ে গেল। ⸻ ভোরে ঘুম ভাঙার পর রতনের কিছুই মনে রইল না। ⸻ শুধু একটা অদ্ভুত অনুভূতি। ⸻ যেন সে কারও সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছে। ⸻ আর সেই কারও কাছে… অজান্তেই একটা দরজা একটু বেশি খুলে দিয়েছে। ⸻ দূরে, বহুদিনের পুরোনো বটগাছটার শিকড়ের নিচে, মাটির গভীরে চাপা পড়ে থাকা ভাঙা বন্ধনের কোথাও যেন একটা সূক্ষ্ম ফাটল আরও একটু চওড়া হয়ে উঠল।
Parent