কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ৩৪

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242775.html#pid6242775

🕰️ Posted on June 19, 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 468 words / 2 min read

Parent
অধ্যায় ৩৩ : নামের ছায়া কলেজ ছুটি হওয়ার পর রতন, সিবু, গোপাল আর আরও দু-একজন একসঙ্গে গ্রামের দিকে ফিরছিল। বিকেলের আলো তখন নরম হয়ে এসেছে। ধান কাটা হয়ে যাওয়া জমির ওপর দিয়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ⸻ ছেলেগুলো নিজেদের মধ্যে গল্প করছে। কেউ ক্রিকেট নিয়ে। কেউ কলেজের নতুন শিক্ষক নিয়ে। ⸻ কিন্তু রতন আজ একটু চুপ। ⸻ সে হাঁটছে ঠিকই। কিন্তু তার মন যেন অন্য কোথাও। ⸻ রাস্তার ধারে একটা পুরোনো বটের চারা দেখে হঠাৎ তার মাথার ভেতর কেমন যেন ঝাঁকুনি লাগল। ⸻ একটা নাম। ⸻ একটা বহু পুরোনো নাম। ⸻ মনে হলো নামটা সে বহুবার শুনেছে। ⸻ অথচ কখনও শোনেনি। ⸻ তার ঠোঁট নড়ল। খুব আস্তে। ⸻ — নিরঞ্জ… ⸻ পাশ থেকে সিবু শুনে ফেলল। ⸻ — কী বললি? ⸻ রতন চমকে উঠল। ⸻ — কই? কিছু না তো। ⸻ — না না, কিছু একটা বললি। ⸻ গোপালও তাকাল। ⸻ — কার নাম রে? ⸻ রতনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল। ⸻ কারণ সে নিজেই জানে না কেন শব্দটা মুখে এসেছিল। ⸻ — আরে কিছু না। ভুল শুনেছিস। ⸻ সে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল। ⸻ বন্ধুরা কিছুক্ষণ খোঁচাখুঁচি করল। তারপর অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল। ⸻ কিন্তু রতনের কপালে তখন হালকা ঘাম। ⸻ শীতের বিকেলে। ⸻ সন্ধ্যা নামার আগেই সে বাড়ি ফিরল। ⸻ প্রতিমা রান্নাঘরে। ⸻ রমাপদ এখনও ফেরেননি। ⸻ সবকিছু আগের মতো। ⸻ তবু রতনের ভেতরে কোথাও যেন আরেকটা নীরব উপস্থিতি জেগে আছে। ⸻ রাত। ⸻ সবাই ঘুমিয়ে। ⸻ চাঁদের আলো জানলার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকেছে। ⸻ রতনের চোখ বন্ধ। ⸻ কিন্তু তার ভেতরে অন্য এক জাগরণ। ⸻ স্বপ্ন নয়। ⸻ আবার পুরো জাগরণও নয়। ⸻ এক অদ্ভুত মাঝামাঝি অবস্থা। ⸻ সেখানে সে নিজেকে দেখতে পেল গ্রামের ওপর দিয়ে তাকিয়ে থাকতে। ⸻ মাঠ। ⸻ পুকুর। ⸻ মন্দির। ⸻ নতুন টিনের ছাউনি দেওয়া কয়েকটা বাড়ি। ⸻ ইলেকট্রিকের খুঁটি। ⸻ দূরে মোবাইল টাওয়ারের আলো। ⸻ সবকিছু সে দেখছে। ⸻ কিন্তু রতনের চোখ দিয়ে নয়। ⸻ আর সেই অদৃশ্য দৃষ্টির মধ্যে একটা শীতল কৌতূহল। ⸻ “অনেক বদলে গেছে…” ⸻ “তবু মানুষ একই রয়ে গেছে।” ⸻ একটা নিঃশব্দ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। ⸻ যেন বহু বছর পরে কেউ নিজের পুরোনো জায়গায় ফিরে এসেছে। ⸻ আর চারপাশটা পরীক্ষা করে দেখছে। ⸻ কে বেঁচে আছে। ⸻ কী বদলেছে। ⸻ কী ভেঙেছে। ⸻ আর কী এখনও আগের মতো আছে। ⸻ দূরে গ্রামের মন্দিরের ঘণ্টা বাজল। ⸻ সেই শব্দ শুনে অন্ধকারের ভেতরে যেন এক মুহূর্তের জন্য একটা তীক্ষ্ণ হাসি ফুটে উঠল। ⸻ সেটা আনন্দের হাসি নয়। ⸻ বিদ্রূপেরও নয়। ⸻ বরং এমন এক হাসি, যা দেখে মনে হয়— কেউ খুব ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে। ⸻ খুব দীর্ঘ সময় ধরে। ⸻ আর এখন মনে করছে— অপেক্ষার শেষটা হয়তো আর বেশি দূরে নয়। ⸻ সকালে ঘুম ভাঙার পর রতনের কিছুই মনে রইল না। ⸻ শুধু জানলার বাইরে তাকিয়ে তার হঠাৎ মনে হলো— গ্রামটাকে সে যেন নতুন করে দেখছে। ⸻ আর অনেক দূরে, কুয়াশার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার দিকে তাকিয়ে তার অকারণ মনে হলো— ওখানে কিছু একটা এখনও জেগে আছে।
Parent