মরীচিকা ও মোহময়ী - অধ্যায় ৬১
৫
ডিসেম্বর ২৫, সকাল পৌনে এগারোটা।
বাইরে কলকাতার রাস্তায় বড়দিনের হালকা রোদের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে, ডালহৌসি স্কোয়ারের ওপর হালকা রোদের এক পাতলা চাদর বিছানো, যদিও রোদের তীব্রতা নেই।
কিন্তু, লালবাজারের দোতলায় প্রেস ব্রিফিং রুমের চার দেওয়ালের পরিবেশ হাওয়া বেশ টানটান।
ঘর ভর্তি মিডিয়ার লোক। ভিড়, ক্যামেরার ট্রাইপডের ঠোকাঠুকি, মাইকের ঘড়ঘড় আওয়াজ আর খবরের কাগজ আর টেলিভিশনের সাংবাদিকদের ব্যস্ততা। এসি চলছে, তবু একটা দমবন্ধ ভাব। চারকোনা টেবিলটার কাঠের রোস্ট্রামের ওপর প্রায় বারো-চৌদ্দখানা আলাদা আলাদা চ্যানেলের বুম জটলা পাকিয়ে আছে।
টেবিলের কেন্দ্রে বসে আছেন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) সুব্রত চক্রবর্তী। তাঁর চোখের নিচে সামান্য কালি, চেহারায় বয়সের ছাপ, মাথার চুলগুলো পাশ থেকে স্লেট রঙের, চোখের নিচে ফোলা থলে।
ওনার বাঁ পাশে গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি আর ডানপাশে অ্যাডিশনাল সিপি বসে।
অর্জুন লাহিড়ী ঘরের পেছনের দিকের একটা সিটে হেলান দিয়ে বসেছিল। 'দ্য স্টেটসম্যান'-এর লোগো দেওয়া প্যাডটা কোলের ওপর খোলা, তবে কলমটা আঙুলের ফাঁকে অলসভাবে ঘুরছে।
২৭ বছরের অর্জুনের জিন্সের জ্যাকেটের কলারটা কিছুটা তোলা, চোখে মৃদু ক্লান্তি। গত চারদিন ধরে এই অজয় সামন্ত কেসটা নিয়ে কলকাতার কোনো সংবাদমাধ্যমের শান্তিতে ঘুম হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রকের ক্ষমতাশালী আমলা অজয় সামন্ত দিন পাঁচেক আগে বিকাশ ভবনে নিজের অফিসে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাসপাতালে আনার আধঘণ্টার মধ্যে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কারণ, সিভিয়ার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। গল্পটা ওখানেই শেষ হতে পারত।
কিন্তু, শেষ হলো না কারণ তাঁর স্ত্রী সোমা সামন্ত পরদিনই হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলেন।
তাঁর অভিযোগ, তাঁর স্বামীর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে মন্ত্রকেরই উচ্চপর্যায়ের লোক জড়িত। হাইকোর্ট দ্রুত সৎকার থামিয়ে পোস্টমর্টেমের নির্দেশ দেয়। রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।
সুব্রত চক্রবর্তী গলার আওয়াজ খাঁকারি দিয়ে সামনে রাখা জলের গ্লাসে এক চুমুক দিলেন। ঘরের চ্যাটারিং এক লহমায় বন্ধ হয়ে গেল। সব ক্যামেরার ফ্ল্যাশ একসঙ্গে জ্বলে উঠল।
তিনি টেবিলের ওপর রাখা ফাইলটা খুলে তাঁর পরিচিত গম্ভীর, গলায় বলতে শুরু করলেন,
"লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশে আরজিকর হাসপাতালের তিন সদস্যের ফরেনসিক বোর্ডের অধীনে অজয় সামন্তের যে পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে, তার প্রিলিমিনারি রিপোর্ট আজ সকালে আমরা হাতে পেয়েছি। মিডিয়াতে যেভাবে নানা জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে, পুলিশ বিভাগ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সত্যটা পরিষ্কার করা।
শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব প্রয়াত অজয় সামন্তের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আজ সকালে আমাদের হাতে এসেছে। ময়নাতদন্ত হাইকোর্টের নির্দেশমতো গতকাল রাতে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের নজরদারিতেই করা হয়েছে এবং পুরো প্রসিডিওর ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে।”
এক সেকেন্ড থামলেন তিনি। ঘরের ক্যামেরাগুলোর ফ্ল্যাশ একসাথে জ্বলে উঠল।
অর্জুন তার কোলের ওপর রাখা প্যাডে নীল বলপেনটা আঙুলের খাঁজে নাড়াচাড়া করতে লাগল। সে কোনো নোট নিচ্ছে না।
প্রেস কনফারেন্সে আইপিএস অফিসারদের মুখের কথার চেয়ে মুখের রেখা পড়াটা বেশি দরকারী, এই প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষাটা সে ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এ কাজ করতে করতেই পেয়েছে।
“রিপোর্টে খুব পরিষ্কার করে বলা হয়েছে।”
সুব্রত চক্রবর্তী ফাইলের একটা পাতায় আঙুল বোলালেন,
“অটোপ্সি রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছে, দেহের বাইরে বা ভেতরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পয়জনিং বা কোনো কেমিক্যাল টক্সিনের উপস্থিতিও প্রাথমিক ভিসেরা টেস্টে পাওয়া যায়নি। টক্সিকোলজি রিপোর্টও নেগেটিভ। ওনার পাকস্থলীতে সাধারণ খাবার ছাড়া সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।
ডাক্তারদের ওপিনিয়ন মৃত্যুর কারণ ‘অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন’। অর্থাৎ যাকে আমরা চলতি ভাষায় ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক বলি। ওনার হৃৎপিণ্ডের বাঁ দিকের ধমনীতে প্রায় নব্বই শতাংশ ব্লকেজ ছিল। বিষক্রিয়া বা বাইরে থেকে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সো, লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলমেন, ইট ইজ আ কেস অফ ন্যাচারাল ডেথ। মিসেস সোমা সামন্ত যেসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তার সপক্ষে কোনো মেডিকো-লিগ্যাল এভিডেন্স পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আজই এই ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা দিচ্ছে এবং বডি ফ্যামিলির হাতে হ্যান্ডওভার করার প্রসেস শুরু হয়েছে। থ্যাংক ইউ।”
সুব্রত চক্রবর্তী ফাইলটা বন্ধ করতেই হট্টগোল শুরু হয়ে গেল। একসঙ্গে ছ-সাতজন সাংবাদিক সোজা দাঁড়িয়ে উঠলেন।
“স্যার! তাহলে ম্যাডাম সামন্ত যে বিষপ্রয়োগের দাবি করেছিলেন ?”
"স্যার, বিকাশ ভবনের যে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, সেটা নিয়ে পুলিশের কী বক্তব্য?"
“স্যার, শিক্ষা মন্ত্রকের যে সিএসআর ফাইলের গায়েব হওয়া নিয়ে কথা উঠছিল, সেটার সঙ্গে কি এই অ্যাটাকের কোনো যোগ আছে?”
" পুলিশ কী পলিটিক্যাল প্রেসারেই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে তড়িঘড়ি ক্লিনচিট দিল স্যার?"
সুব্রত চক্রবর্তী হাত তুলে সবাইকে শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। তাঁর মুখে একচিলতে হাসির রেখা।
"পুলিশ কোনো রিপোর্টের ওপর রং চড়ায় না। সিসিটিভি ফুটেজের টেকনিক্যাল গ্লিচ নিয়ে সাইবার সেল আলাদা তদন্ত করছে, কিন্তু ডেথ কজ্ একেবারে পরিষ্কার। আপনারা দয়া করে মনগড়া কোনো থিওরি ছড়াবেন না।"
সাংবাদিকদের প্রশ্নের ঝড় আরও মিনিট পনেরো চলল।
তিনি ধীরেসুস্থে প্রশ্নের উত্তর দিলেন। আইনি ভাষায় গোল গোল জবাব, যাতে কোনো নতুন বিতর্ক তৈরি না হয়।
সুব্রত যখন ফাইলটা গুটিয়ে উঠতে যাচ্ছেন, অর্জুন হঠাৎ সোজা হয়ে বসল। ডান হাতটা সামান্য তুলল।
"স্যার, একটা প্রশ্ন।" অর্জুনের গলা খুব বেশি উঁচু ছিল না, কিন্তু স্বরটা পরিষ্কার শোনালো।
সুব্রত চক্রবর্তী চোখ তুলে অর্জুনের দিকে তাকালেন।
“ইয়েস।”
অর্জুন মাইকের দিকে না ঝুঁকেই পরিষ্কার গলায় বলল,
"কিন্তু, আরজিকর-এর ফরেনসিক টিম কি সাধারণ টক্সিকোলজি স্ক্রিনিং করেছে, নাকি কোনো সিন্থেটিক কার্ডিও-টক্সিন বা অর্গানিক নিউরোটক্সিনের জন্য অ্যাডভান্সড স্পেকট্রোমেট্রি টেস্টের সুপারিশ করেছে?
কারণ সাধারণ পোস্টমর্টেমে ডিজিটালিস বা পটাশিয়াম ক্লোরাইডের মতো উপাদান রক্তে ধরা পড়ে না যদি না স্পেশাল রিজেন্ট ব্যবহার করা হয়।"
প্রশ্নটা শুনে পুরো প্রেস রুম সেকেন্ডের জন্য চুপ মেরে গেল। অন্য সাংবাদিকরা অর্জুনের দিকে ঘুরে তাকাল।
সুব্রত চক্রবর্তীর ঠোঁটের কোণটা সামান্য কুঁচকে গেল। তিনি অর্জুনের চোখের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বললেন,
"বোর্ড সব রকমের কেমিক্যাল অ্যানালিসিসের জন্যই নমুনা সিএফএসএল-এ পাঠিয়েছে। ফাইনাল টক্সিকোলজি রিপোর্ট আসতে তিন সপ্তাহ লাগবে। কিন্তু প্রিলিমিনারি রিপোর্টে কোনো অ্যাবনরমালিটি মেলেনি। স্যাটিসফাইড?"
"থ্যাঙ্ক ইউ, স্যার।"
অর্জুন আলতো মাথা নাড়ল।
"ওকে জেন্টলমেন, দ্যাটস অল ফর টুডে।"
সুব্রত ডায়াস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
ডায়াস খালি হতেই ভিড় ভেঙে গেল। সাংবাদিকরা ক্যামেরাম্যানদের নিয়ে হুড়মুড় করে দরজার দিকে ছুটল। কে আগে নিউজ ডেস্কে খবর পৌঁছাবে তার প্রতিযোগিতা। অর্জুন ধীরে সুস্থে নিজের প্যাডটা জ্যাকেটের ভেতরের পকেটে রাখল। তার তাড়া নেই। সে জানত এই রিপোর্টের খবর সব কাগজেই কাল একই ছাপা হবে, পুলিশের ক্লিনচিট।
অর্জুন তাড়াহুড়ো করল না, সে তার নোটবইটা পকেটে ঢুকিয়ে ধীরে সুস্থে উঠে দাঁড়াল। সুব্রত চক্রবর্তী ততক্ষণে পাশের দরজা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেছেন।
ঘর প্রায় খালি হয়ে আসতে অর্জুন দোতলার লম্বা বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দেখল সুব্রত চক্রবর্তী তাঁর দুই বডিগার্ড আর পিএ-কে নিয়ে লিফটের দিকে না গিয়ে বাঁদিকের সিড়ির দিকে হাঁটা দিচ্ছেন।
অর্জুন ভিড় এড়িয়ে দ্রুত পায়ে ওনার পিছু নিল। সিঁড়ির মুখে গিয়ে মৃদু গলায় ডাকল, "সুব্রতদা।"
সুব্রত চক্রবর্তী থামলেন। পেছনের গার্ড দুজনকে একটু দূরত্ব বজায় রাখতে ইশারা করে পিছনে ঘুরলেন। তাঁর চোখের চশমাটা খুলে পকেটের রুমাল দিয়ে মুছতে মুছতে অর্জুনের দিকে তাকালেন।
"পটাশিয়াম ক্লোরাইডের জ্ঞানটা কার থেকে ঝাড়লে অর্জুন? গত সপ্তাহে সিবিআই-এর কোনো সোর্সের সঙ্গে চা খাচ্ছিলে নাকি ?"
তার গলায় হালকা ঠাট্টার সুর।
"না সুব্রতদা।"
অর্জুন একটু হাসল,
"ফোরেনসিক মেডিসিনের বইগুলো মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া করি। তাছাড়া আপনি তো জানেন, অজয় সামন্তর স্ত্রী সোমা সামন্ত একা রিট পিটিশন করেননি, ওনার পেছনে রাজভবনের ইনভিজিবল লবি কাজ করছিল। কেসটা অত সহজে মিটে যাবে?"
সুব্রত বাবু চশমাটা আবার চোখে পরে একটা শ্বাস ফেললেন।
"আদালত পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চেয়েছে, পুলিশ জমা দিয়েছে। বাকিটা ল্যাব বলবে। তুমি ছুটির দিনেও খবরের পেছনে মতো দৌড়চ্ছ কেন বল তো ? তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই, ছুটিতে বেড়াতে যাবার ইচ্ছা করে না?"
"আপনি তো জানেন দাদা, আমার ঘরে শুধু বই আর কফির কাপ অপেক্ষা করে।"
অর্জুন মুচকি হাসল।
"তবে আপনার আজকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কিন্তু বলছিল অজয় সামন্ত কেসটা নিয়ে আপনি ভেতরে ভেতরে খুব একটা সন্তুষ্ট নন।"
সুব্রতবাবু আড়চোখে করিডোরের শেষ প্রান্তটা দেখে নিলেন। একজন কনস্টেবল ছাড়া আর কেউ দাঁড়িয়ে নেই। লালবাজারের দোতলার এই করিডোরটা ছুটির দিন সকালে একবারে নিঝুম।
"এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার কোন মানে হয় না।"
সুব্রতবাবু হাতের ঘড়িটার দিকে তাকালেন। পৌনে এগারোটা বাজছে।
"আমায় এখুনি বেরোতে হবে। পার্ক স্ট্রিটে একটা সিকিউরিটি ব্রিফিং আছে, তারপর ভিক্টোরিয়ার দিকে একটা ভিজিট। গাড়ি বের করতে বলেছি।"
অর্জুন কোনো কথা বলল না, শুধু ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
সুব্রত বাবু দু-সেকেন্ড ইতস্তত করলেন। তারপর বললেন,
"গাড়িতে উঠবে? তোমাকে ধর্মতলায় ড্রপ করে দিতে পারি। রাস্তায় কথা বলছি।"
অর্জুন খবরের গন্ধ পেল। একজন পেশাদার সাংবাদিকের এই ইনস্টিংক্টটা থাকা খুব দরকার। মনে মনে উৎসাহিত হয়ে উঠলেও সে কিন্তু মনের ভাবটা মুখে একদম প্রকাশ করল না।
"আচ্ছা, চলুন তাহলে।" অর্জুন সংক্ষিপ্ত জবাব দিল।
লালবাজারের পিছনের গেটে দাঁড়িয়ে ছিল গাঢ় নীল রঙের টাটা সাফারি। ফ্ল্যাশার লাইটে কালো কাপড়ে ঢাকা। ড্রাইভার দরজা খুলে দাঁড়িয়েছিল।
অর্জুন পেছনের সিটে গিয়ে বসতেই শক্ত ভারি দরজাটা 'ঠাস' শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। বাইরের দুনিয়ার শোরগোল এক লহমায় গায়েব। গাড়ির ভেতরের এসি থেকে একটা চাপা পারফিউমের গন্ধ আর মৃদু ঠান্ডা হাওয়া ভেসে আসছে।
মুহুর্তের মধ্যেই ভারী গাড়িটা একটা হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে লালবাজারের পেছনের গেট টপকে রয়্যাল এক্সচেঞ্জ প্লেসের ওপর এসে পড়ল। ভেতরের এসির হাওয়া বাইরের কলকাতার আর্দ্র শীতের থেকে আলাদা।
সুব্রত বাবু উইন্ডস্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রিল্যাক্সড হয়ে বসলেন। জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ড্যাশবোর্ডের দিকে তাকিয়ে লাইটার জ্বালানোর আগে ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বললেন,
"হরেন, কাচটা একটু ডাউন করো তো।"
তারপর অর্জুনের দিকে না তাকিয়েই চুরুট বা সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়লেন।
"অজয় সামন্তকে নিয়ে যা ভাবছ, সত্যিটা হয়তো তার কাছাকাছিই। কিন্তু ওটা নিয়ে ওপর মহলের এতো চাপ যে খবর করা শক্ত।"
অর্জুন শান্ত গলায় বলল।
“সামন্তবাবু যে খুব সৎ অফিসার ছিলেন না সেটা সবাই জানে। একজন মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতেই পারেন। কিন্তু, মৃত্যুর পরে কেন ওনার ঘরের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে যাবে ? ফাইল গায়েবের অভিযোগ উঠবে ? আর, বলা নেই কওয়া নেই ফোন বন্ধ রেখে ওনার ড্রাইভার কেন দুম করে উধাও হয়ে যাবে?
আপনি তো ভালো করেই জানেন দাদা, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কিছু না পাওয়া যাওয়া মানেই মৃত্যুটা স্বাভাবিক, এমনটা না-ও হতে পারে।”
কথাগুলো শুনে সুব্রত চক্রবর্তী জানলার বাইরে ফাঁকা কলকাতার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলেন। অর্জুনের বাবা যখন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে ছিলেন, সুব্রত মুখার্জি তখন ওনার অধীনে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। সেই সূত্রে অর্জুনকে তিনি ছোটবেলা থেকে চেনেন। অর্জুন যে সস্তা টিআরপি-র পেছনে দৌড়ানো সাংবাদিক নয়, তা সুব্রতবাবু ভালো করেই জানেন।
লালবাজারের ভারী টাটা সাফারিটা এখন স্টিফেন হাউসের অট্টালিকাটা পার হয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ক্রসিংয়ের দিকে এগোচ্ছে।
২৫ শে ডিসেম্বরের সকালের মিষ্টি রোদে অন্যদিনের জমজমাট ডালহৌসির মোড় আজ প্রায় ফাঁকা। ইতি-উতি দুচারজন লোক দেখা যাচ্ছে।
সুব্রত চক্রবর্তী সিগারেটের ধোঁয়াটুকু জানালার সামান্য ফাঁক গলে বাইরে ছেড়ে দিলেন। অর্জুনের কথার ধার তিনি জানেন। অর্জুনের বাবাও ঠিক এভাবেই জটিল কেসের সূক্ষ্ম সুতো ধরে টান দিতেন।
"অর্জুন।"
সুব্রতবাবুর গলার স্বর এবার স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত দুই স্কেল নিচে নেমে এল,
"তোমার হোমওয়ার্ক বেশ ভালো। কিন্তু সাংবাদিকতার সমস্যা হলো, তোমরা ডটগুলো মেলাতে গিয়ে মাঝে মাঝে এমন ছবি আঁকো যেগুলো আইনের চোখে টিকবে না।"
তিনি চশমাটা খুলে কোলঘেঁষা সিটের ওপর রাখলেন। চোখের নিচের ফোলা ভাবটায় যেন ক্লান্তির চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
"ড্রাইভার রাম বিলাস উধাও হয়নি। সে নিজেই থানায় গিয়ে স্টেটমেন্ট দিয়ে গেছে, মালিকের মৃত্যুর পর কিছু রাজনৈতিক ক্যাডারের হুমকির ভয়ে সে বিহারে গ্রামের বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছিল। গতকাল তাকে লালবাজারে এনে ইন্টারোগেট করা হয়েছে। সে স্পষ্ট বলেছে, সেদিন অজয় সামন্ত তাঁর চেম্বারে একাই ছিলেন।"
অর্জুন জ্যাকেটের পকেটে হাত গুঁজে স্থির হয়ে শুনছিল। গাড়ির ভেতরের এসি-র মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। সে একটু ঝুঁকে প্রশ্ন করল,
"আর সিসিটিভি ফুটেজ? বিকাশ ভবনের চারতলার করিডোরের আধ ঘণ্টার ফুটেজ ডিলিট হওয়াটাও কি 'টেকনিক্যাল গ্লিচ', সুব্রতদা?"
সুব্রত চক্রবর্তী অর্জুনের দিকে চোখ ফেরালেন। তার ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ফুটে উঠল।
"বিকাশ ভবনের ওই করিডরটায় গত এক মাস ধরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল, পিডব্লিউডি-র রিপোর্ট অন্তত সেটাই বলছে।
তবে হ্যাঁ... কেমিক্যাল অ্যানালিসিস রিজিওনাল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হলেও, ডক্টর সেনগুপ্ত আমাকে পার্সোনালি একটা কথা বলেছেন।"
অর্জুন চোখের পাতা না ফেলে অপেক্ষা করতে লাগল।
"ডক্টর বলেছেন, অটোপ্সির সময় রক্তে একটা বিশেষ উপাদানের উপস্থিতি সন্দেহ করা হয়েছে, যেটা সাধারণ কার্ডিয়াক প্যানেলে আসে না। 'Digoxin' এর নাম শুনেছ? এটা পেশী অবশ করার এমন এক ওষুধ যা শরীরে ঢোকার অল্পক্ষণের মধ্যে ন্যাচারাল মেটাবোলাইটে ভেঙে যায়। হার্ট অ্যাটাক ঘটিয়ে এটা উবে যায়, সাধারণ টক্সিকোলজি স্ক্রিনিং একে ধরতে পারে না।"
অর্জুন মৃদু শ্বাস ফেলল।
"তার মানে সোমা সামন্তের অভিযোগ একবারে ভিত্তিহীন নয়। অজয় সামন্তকে কোনো সূক্ষ্ম বিষক্রিয়ায় মারা হয়েছে।"
গাড়ি ততক্ষণে মিশন রো-এর ক্রসিং পেরিয়ে গেছে।
"অভিযোগ প্রমাণ করার মতো শক্ত ডকুমেন্ট এখনও আমাদের হাতে নেই, অর্জুন।"
সুব্রতবাবু সোজাসুজি অর্জুনের দিকে তাকালেন,
"আর ওই সিএসআর ফাইলের কথা বলছিলে? ফাইলটা গায়েব হয়নি। রাজভবন থেকে একটা কেস রেফারেন্স আসতেই সেটা নবান্নে স্পেশাল ক্যাবিনেট সেল নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছে। লালবাজারকে শুধু বলা হয়েছে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে।"
গাড়িটা ততক্ষণে সেন্ট্রালের ক্রসিংয়ে এসে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে গেছে। রাস্তার বাঁ পাশেই অর্জুনের অফিস। ঐতিহাসিক স্টেটসম্যান হাউস।
এবিষয়ে আর কিছু জানার যখন নেই তখন ফালতু ডোরিনা ক্রসিংয়ে নেমে আবার হেঁটে ব্যাক করার চেয়ে এখানে নেমে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কিন্তু, সুব্রত বাবুর একটা কথায় সে থমকে গেল,
"তোমাদের মিডিয়া কিন্তু এসবের চক্করে পড়ে আসল খবরটা ভুলে যাচ্ছে।"
অর্জুনের কান আবার খাড়া হয়ে উঠল। সুব্রত চক্রবর্তী আজকে ভালো মুডে আছেন।
সে কোন তাড়াহুড়ো দেখাল না।
“কিসের কথা বলছেন সুব্রতদা ?”
অর্জুন খুব নিস্পৃহভাবে প্রশ্ন করল।
ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের প্রথম নিয়ম; যখন কোনো বড় অফিসার অফ-দ্য-রেকর্ড মোডে চলে যায়, তখন বেশি বাড়াবাড়ি করলে সে মুখ বন্ধ করে ফেলে।
"পাঁচদিন আগে, যেদিন অজয় সামন্ত বিকাশ ভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, সেদিন সন্ধ্যাবেলা বাইপাসের রুবি মোড় আর পরমা ফ্লাইওভারের কনেক্টিং র্যাম্পের কাছে একটা প্রাইভেট কার এক্সিডেন্ট হয়েছিল, মনে আছে?"
অর্জুন ব্রেনটা একটু ঝালিয়ে নিল।
"হ্যাঁ, একটা কালো স্কোডা আইল্যান্ডে ধাক্কা মেরে উল্টে গিয়েছিল। পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ছিলেন না ভেতরে?"
"ইয়েস," সুব্রত বাবু এক মুখ ধোঁয়া ছাড়লেন।
"শিশির রায়। পোর্ট ট্রাস্টের মাথা। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী অমৃতা রায় ছিলেন। অমৃতা রায় অন দ্য স্পট ডেড। স্কোডার পেছনের দরজার গ্লাস ভেঙে ওনার ঘাড়ের হাড় বেরিয়ে গিয়েছিল। শিশির রায়... উডল্যান্ডসে এখনও ভেন্টিলেশনে। স্কাল ফ্র্যাকচার, ব্রেন হেমারেজ। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছে। বেঁচে উঠলে অলৌকিক ব্যাপার হবে।"
অর্জুন ভ্রূ কুঁচকে ভাবল।
"এটা তো একটা অ্যাকসিডেন্ট সুব্রতদা। যতদূর মনে পড়ছে, গাড়িটা শিশিরবাবু নিজেই ড্রাইভ করছিলেন। উনি নাকি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে এটা ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভের এক্সিডেন্ট বলে রেজিস্টার্ড হয়েছে।"
অর্জুন বলল।
"শিশির রায় নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, গাড়ি আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে ডিভাইডারে মারে।"
সুব্রত বাবু হাসলেন।
"তুমিও ওই থিওরি গিলে বসে আছ অর্জুন? পোর্টের চেয়ারম্যান যে পাঁচ বছর ধরে কলকাতা পোর্টের হাজার হাজার কোটি টাকার কন্টেনার লিজিং আর প্রাইভেট বার্থ অ্যালোকেশন সামলাচ্ছে, সে সন্ধেবেলা মদ খেয়ে বউকে পাশে বসিয়ে ১২০ স্পিডে বাইপাসের ব্লাইন্ড স্পটে গাড়ি মারবে?"
অর্জুন সোজা হয়ে বসল।
"আপনি বলতে চাইছেন এটা অ্যাক্সিডেন্ট নয়?"
গাড়ি এখন সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ধরে এগোচ্ছে। ফুটপাতে ক্রিসমাসের টুপি পরা কিছু বাচ্চা আর বেলুন বিক্রেতা ছাড়া রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সেরকম লোকজন নেই।
"প্রাথমিক তদন্তে যা এসেছে, তা যদি আমি তোমাকে বলি, তুমি কাল কাগজে ছাপতে পারবে না। কারণ আমার কাছে এখনও কোনো পেপার প্রুফ নেই।"
"প্রাথমিক তদন্তে কী মিলেছে ?" অর্জুনের গলায় ইনভেস্টিগেটিভ প্রেশার।
"গাড়িটার ফরেনসিক এক্সামিনেশন করা হয়েছিল লালবাজারের টেকনিক্যাল টিমকে দিয়ে।"
সুব্রত বাবু আস্তে আস্তে বললেন।
"স্কোডার স্টিয়ারিং কলাম আর ব্রেক ফ্লুইড পাইপে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। কিন্তু মজার বিষয় হলো, গাড়ির ইসিইউ (ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট) চিপটা ইমপ্যাক্টের পর পুড়ে গেছে। ওটা ইমপ্যাক্টে পোড়েনি, ওটাকে শর্ট সার্কিট করানো হয়েছে বা কেমিক্যাল দিয়ে মেল্ট করানো হয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, শিশির রায়ের ব্লাড অ্যালকোহল লেভেল ছিল জিরো। অথচ দুঘণ্টার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ রিপোর্ট বানিয়ে দিল ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ।"
গাড়ির ভেতরের হাওয়াটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। অর্জুন পুরো ব্যাপারটা ছকে ফেলার চেষ্টা করল।
"আর অমৃতা রায়? শিশির রায়ের স্ত্রী?"
“অমৃতা রায় সাধারণ হাউসওয়াইফ ছিলেন না।”
সুব্রতবাবু বললেন।
"বিয়ের আগে উনি একটা লজিস্টিক কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের প্রাক্তন পার্সোনাল সেক্রেটারি ছিলেন।
শিশির রায়ের সমস্ত পার্সোনাল ফাইল, অফ-দ্য-রেকর্ড ডায়রি আর পার্সোনাল অ্যাকাউন্টস অমৃতা রায়ই হ্যান্ডেল করতেন। বলতে পারো, শিশির রায়ের সমস্ত হাঁড়ির খবর উনি জানতেন।
তিন বছর আগে শিশির রায়ের সাথে ওনার বিয়ে হয়। দুজনের বয়সের অনেকটা ডিফারেন্স, প্রায় পনের বছর। ম্যারেজটা কতটা লাভ আর কতটা স্ট্র্যাটেজিক বিজনেস ছিল, সেটা বড় প্রশ্ন।”
"মার্ডার?"
অর্জুন ফিসফিস করে বলে উঠল।
"যদি হিট অ্যান্ড রান হতো, তাও একরকম ছিল। কিন্তু যেভাবে ঘটনাটা ঘটানো হয়েছে, তাতে মনে হবে স্রেফ হাই-স্পিড স্টিয়ারিং ফেলিউর।"
“দুটো কেসের মধ্যে কোনো কানেকশন আছে ?”
“নাহ। তবে, গত ছয় মাস ধরে উনি কয়েকটা প্রাইভেট শিপিং কোম্পানির লাইসেন্স রিনিউ করার ফাইল চেপে বসেছিলেন।"
অর্জুন এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর সুব্রত মুখার্জির দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি আমাকে এসব কেন বলছেন সুব্রতদা ?”
"আমি তোমায় শুধু একটা খবর দিলাম। তুমি তো খবরের হাড়মাস চিবোতে ভালোবাসো। ট্রাই করে দেখ। তবে সাবধান, পোর্ট আর লজিস্টিকসের পেছনে যেসব প্লেয়াররা আছে, তারা কিন্তু কলকাতার ছোটখাটো তোলাবাজ গ্যাং নয়। তারা ইন্টারন্যাশনালি কানেক্টেড।"
গাড়ি পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে এসে মোলায়েমভাবে দাঁড়িয়ে পড়ল। পার্ক স্ট্রিট আলোর মালায় সাজানো, রাতে এখানটা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে। যত রাত বাড়বে তত ভিড় বাড়বে।
"থ্যাঙ্ক ইউ, সুব্রতদা," অর্জুন গাড়ির হ্যান্ডেলে হাত দিল।
তারপর থমকে একটু পিছন ফিরে তাকাল।
"একটা শেষ কথা। পুলিশ কি বাইপাসের সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে?"
সুব্রত বাবু একটা অদ্ভুত হাসি হাসলেন।
"কোন ফুটেজ? যে জায়গায় এক্সিডেন্টটা দেখানো হয়েছে, সেখানকার চারটে ক্যামেরা নাকি আগেরদিন থেকে 'অ্যানুয়াল মেনটেন্যান্স'-এর জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। গুড লাক অর্জুন।"
অর্জুন গাড়ি থেকে নেমে আসার সময় সুব্রতবাবু ওর কাঁধে হাত রাখলেন।
"মনে রেখো, 'দ্য স্টেটসম্যান'-এ যদি কাল সকালে ডিগক্সিনের গল্প নিয়ে লিড নিউজ ছাপা হয়, তবে ল্যাব রিপোর্ট আসার আগেই পুরো তদন্ত ভেস্তে যাবে। আমার হাত- পা বাঁধাই থাকবে।"
অর্জুন গাড়ির হ্যান্ডেল ধরে হালকা চাপ দিল।
"আমি কোনো জল্পনা ছাপব না, সুব্রতদা। তবে সত্যটা পুলিশ যদি না বার করে তাহলে প্রেসকে বার করতেই হবে। আর জাস্টিস না পেলে সোমা সামন্তও থেমে থাকবেন না।"
গাড়ির লকটা ‘ক্লিক’ করে খুলে গেল। অর্জুন গাড়ি থেকে নেমে দরজাটা বন্ধ করে দেওয়ার আগে সুব্রতবাবুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল,
"শুভ বড়দিন, সুব্রতদা।"
সুব্রতবাবু আলতো মাথা নাড়লেন,
"শুভ বড়দিন। খবর ধাওয়া করা কমিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে একটু নজর দাও।"
ব্ল্যাক গ্লাসে ঢাকা নীল টাটা সাফারিটা ডিসি সাউথের অফিসের দিকে চলে গেল।
পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে অর্জুন হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
এখান থেকে হাঁটা পথে ওর অফিস কম করে দেড় কিলোমিটার।